Sunday, 11.18.2018, 03:01pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
সঙ্গীত
 
ফরিদা পারভীন



ফরিদা পারভীন- নিজের নামই যার পরিচয়। লালন ফকিরের গানকে তিনি শুধু তুমুল জনপ্রিয়ই করে তোলেন নি, লালনের গানকে দেশের বাইরে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। নাটোরের কলম গ্রামের যে কোমল কিশোরী মোকছেদ সাঁই নামের সঙ্গীতঅন্ত প্রাণ মানুষের হাত ধরে আজকের অবস্থানে উঠে এসেছেন ,আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগের কথা। ’৭২ কী ’৭৩ সাল। কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়াতে দোল পূর্ণিমার উৎসব হচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালনের ভক্তরা জমায়েত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষের এই অনুষ্ঠানে আরো অনেকের মতোই ছোট্ট একটা মেয়েও তার গানের শিক্ষকের হাত ধরে হাজির হয়েছে। মেয়েটির গুরু মোকছেদ আলী সাঁই। গুরু- শিষ্যার মধ্যে দারুণ ভাব। ছাত্রী বলতে তিনি অজ্ঞান। নানা ধরণের লালনের গানের পর্ব শুরু হওয়ার পর মোকছেদ সাঁই তার ছাত্রীকে ডেকে বললেন, “মা, তুই তো ভালোই গাইতে পারিস, একটা লালনের গান শিখে নে।” তেমন কোনো প্রতিউত্তর করলো না মেয়েটি।

ওস্তাদের কথা মেনেই লালনের গান শেখার দিকে মনোযোগ দিলো মেয়েটি। ঐ উৎসবের মধ্যেই সে নিজের মেধা এবং যোগ্যতার বলে শিখে ফেললো লালনের ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি। উৎসবে সে হাজার মানুষের সামনে এই গান পরিবেশনও করে ফেললো শিক্ষকের ভালোবাসা আর আশীর্বাদকে পাথেয় করে। আর এই গান গাওয়ার পরে উপস্থিত মানুষের আর লালন ভক্তদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হলো, সেই বিষয়টিই এই সাধারণ মেয়ের মধ্যে অসাধারণ এক গায়িকার জন্ম দিল। শ্রোতাদের তুমুল করতালি আর বাহবার উৎসাহের ভেতরে সে যখন এই গান পরিবেশন শেষ করলো, তখন আবারো একটা গান গাওয়ার জন্য শ্রোতাদের তুমুল অনুরোধের জবাবে, লজ্জাজড়িত কন্ঠে ফরিদা পারভীন নামের কিশোরী মেয়েটি জানাতে বাধ্য হলো যে, সে আর কোনো গান জানে না!

একটি সোনালী মূহুর্ত বদলে দেয় কতো কিছু! যে মেয়েটি লালন সঙ্গীত গাইবার কী শেখার জন্য কোনো আগ্রহ বোধ করেনি সারাজীবন, সেই কী- না সেদিন থেকে এক ধরণের তুমুল ভালোবাসা অনুভব করতে লাগলো এই বাংলার মাটি- জলের গন্ধে ভরা গান শেখার জন্য। তারপর থেকে ভালোবাসা আর ভক্তির মিলিত প্রবাহে জন্ম নিলেন আমাদের দেশের লালন সঙ্গীতের সেরা প্রতিভা ‘ফরিদা পারভীন’। যিনি কেবল লালন ফকিরের গান ভালোই বাসেন না, একে অন্তরের অন্ত:স'ল থেকে বিশ্বাসও করেন। তবে আজকে তার কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়- কোনো ধরণের আগাম চিন্তা না করে লালনের গানের ভুবনে কীভাবে ঢুকে গেলেন, চির পরিচিত অনাবিল হাসিতে তিনি বলেন, “এখন মাঝে মাঝে মনে হয় এটা ঐশ্বরিকভাবে ঘটে গিয়েছিল।”


শুরু হলো নজরুলের হাত ধরে

নজরুলের গান দিয়ে শুরু হলেও এখন তিনি পুরোদস্তুর লালন শিল্পী। নজরুল গীতি ছেড়ে লালনের গানে প্রবেশ করাটা তার নিজের কাছেই এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। তবে FaridaParvinনিজের গানের ভুবনটা এখন আলাদা হবার ফলে নজরুল গীতি গাইতে না পারলেও তিনি এখনো তুমুল ভক্ত এই গানের।

সময় পেলে আনমনে এখনো তিনি গেয়ে ওঠেন, ‘মুসাফির মোছ রে আঁখি জল’। এই গানটির পেছনে দারুণ এক গল্প আছে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে আমাদের জাতীয় কবির শিয়রের পাশে বসে তাকে এই গান শুনিয়েছেন সেদিনের সেই কিশোরী ফরিদা। ’৭৬ সালের প্রথম দিকের কথা। বিদ্রোহী কবি তখন ধানমন্ডির বাসায় (বর্তমানে নজর"ল ইন্সিটিউট) থাকতেন। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। কবির সে সময়ের অবস্থা আমাদের সবার জানা। ফরিদা পারভীনের মনে আজো স্পষ্টভাবে ভাসে- তার গান শুনে কবির চোখে পানি জমে গিয়েছিল। চোখের ভাষায় বাংলার দামাল কবি কী বলতে চেয়েছিলেন সেটা না জানা গেলেও এক কবির আর্শীবাদে ধন্য হয়ে নিজের গলায় এই জাদুকরী কন্ঠ তিনি পেয়েছেন- এ কথা কোনো মুগ্ধ পাঠক ভাবতেই পারেন!

দেশে- বিদেশে

আলাপ যখন কবি নজর"লের কথাতেই জমলো, ফলে সেখানেই থাকা উচিত। নজরুলের মৃত্যুর মাত্র মাস কয়েক পরে ফরিদা পারভীন প্রথম বিদেশ সফরে যান। দেশের নাম লিবিয়া। আর তার নিজের সেশের মানুষের জন্য উপহার ছিল- লালনের গান। হাজার হাজার মানুষের সামনে লিবিয়ার নানা স্থানে গান পরিবেশনের ফলে তিনি বুঝতে পারেন, সারা বিশ্বের মানুষের ভেতরেই সুর, তাল, লয় বহমান। লালনের গান তাকে ভালোবাসা এনে দিয়েছে বিদেশের মাটিতে- এটা উপলব্ধি করার পরে লালনের গানের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তৈরি হয়ে গেল ফরিদা পারভীনের ভেতরে। সেই থেকে নিজের জীবনের সঙ্গে তিনি এই গানকে বেঁধে ফেলেছেন।

গানের অ, আ, ক, খ এবং

ফরিদা পারভীনের গানের হাতেখড়ি ওস্তাদ অমল চক্রবর্তীর হাতে। বাবা প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন পেশায় সরকারী চিকিৎসক ছিলেন। আর তার নানা স্থানে বদলীর চাকুরীর FaridaParvinসুবাদে বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গ পেয়েছেন ফরিদা পারভীন। তবে নিজের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় মানে শৈশবকাল তিনি কাটিয়েছেন মাগুরায়। মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তিনি। দুরন্ত শৈশবের নানা আজো তাকে শৈশবের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আর এসবের মধ্যে ঢুকে পড়েন ওস্তাদ অমল চক্রবর্তী। যিনি তাকে কন্যা স্নেহে হারমোনিয়ামের সারগম শিখিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন নানা তাল, লয় সম্পর্কে। আজকের বিখ্যাত ছাত্রী নিজের সেই সময়ের শিক্ষকের কথা মনে করে এখনো আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আনমনে, পরম ভালোবাসা নিয়ে বলতে থাকেন, “তার মতো গুরু এখন পাওয়া যায় কী-না, আমি জানি না। আমার সেই খুব অল্প বয়সে তিনি আমাকে নিজের হাঁটুর ওপর বসিয়ে চুল বেঁধে দিতেন।” তিনি আরো জানান যে, “আমি হারমোনিয়ামের নাগাল পেতাম না। তার কোলের উপর বসে আমাকে হারমোনিয়াম বাজাতে হতো।”


জন্ম তব কলম গ্রামে

ফরিদা পারভীনের জন্ম নাটোরের কলম গ্রামে। এই শান্ত, ছায়া- সুনিবিড় গ্রামটি নিজের নামেই বিখ্যাত। কথায় রয়েছে ‘বিল দেখতে চলন, গ্রাম দেখতে কলম’। এই গ্রামের আলোছায়ায় এক চঞ্চল আর দুরন্ত মেয়ে সারাদিন দৌড়-ঝাঁপ আর খেলাধুলা করে কাটিয়েছে নিজের পুরোটা শৈশব।

ফরিদা পারভীনের দাদা আর নানার বাড়িকে আলাদা করেছে মাঝে বয়ে চলা কুলকুল শব্দের এক ছোট্ট নদী। আর এই নদীটা ফরিদা পারভীন কতোবার যে পাড়ি দিয়েছেন তার কোনোই ইয়াত্তা নেই। সেই সব স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা এই পরিণত বয়সে এসেও তিনি মোটেও ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, “আমার নানার বাড়ির পাশেই ছিল বিরাট বিল। আমরা সবগুলো মামাতো ভাই- বোন মিলে সাথে সারাদিন বিলে শাপলা-শালুক তুলে বেড়াতাম।”

 
এবারের কথামালা পড়ালেখা

নিজের লেখাপড়া বাবার কর্মস'ল মাগুরাতে শুরু করলেও নানা সময়ে তিনি নানা স্কুলে পড়েছেন। তবে তিনি এস.এস.সি. পাশ করেছেন কুষ্টিয়ার মীর মোশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে। আর তিনি এইচ.এস.সি পাশ করেছেন ’৭৪ সালে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে। আর একই কলেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ’৭৯ সালে অনার্স করেন ফরিদা পারভীন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকা চলে আসেন ফরিদা পারভীন। তারপর চলে লালন গীতিকে নিবিড়ভাবে গ্রহণ করার জন্য একাগ্র সাধনা। আর বাংলাদেশের এই শ্রেষ্ঠ লালন শিল্পীর আজকের হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন গুরু মোকছেদ সাঁই।

 
লালনের গান, আমাদের সময়

নিজের সারা জীবনের সাধনার কথা বলার পাশাপাশি লালনের গান আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কীভাবে গ্রহণ করছেন- এমন আরো নানা সব আলোচনায় চলে গেলেন তিনি। তিনি জানালেন, “আজকাল অনেকেই লালন ফকিরের গান গাইছেন। এটা আশার কথা হলেও দু:খজনক এই যে, এদের অনেকেই গানের বাণী ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারেন না। আবার, অনেকেরই তাল, লয় ঠিক নেই। ফলে নিজেদের না জানার কারণে তারা গানকে বিকৃত করে ফেলছেন।”

তিনি এসব কথা বলার পাশাপাশি আরো বলেন, “সঙ্গীত আসলে সাধনার বস্তু। বিশেষ করে লালন গীতি।” ফরিদা পারভীনের উপলব্ধি-“লালনের গান গাইবার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গানের প্রতি ভক্তি- ভালোবাসা। পাশাপশি একাগ্রতাও প্রয়োজন।” তিনি জানান- এগুলো ছাড়া লালনের গান গাওয়া বৃথা। তবে না বুঝে লালনের গান গাইতে যাওয়াকে ‘ধৃষ্টতা’ বলে অভিহিত করলেন ফরিদা পারভীন।

রাখতে হবে সংরক্ষণে

লালনের গানকে জাতীয় সম্পদ মনে করে তা সংরক্ষণ করার তাগিদ অনুভব করেন ফরিদা পারভীন। আর সে জন্য নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে সঠিক গুরুর হাত ধরে লালনের গান শেখার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি নিজেও উদ্যোগ নিয়েছেন লালনের গান সংরক্ষণের। ইতিমধ্যেই লালনের গানের স্বরলিপি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি। স্টাফ নোটও রাখছেন, যাতে লালনের গান সর্বসাধারণের বুঝতে সুবিধা হয়। এটাকে মানব কল্যান বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার কথায়, “পৃথিবীতে মানুষ এসে চলে যায়। কিন্তু মানুষ শুধু আসা আর যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এটা তো ঠিক না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। কোনো না কোনো মানব কল্যানের কাজ করে না গেলে কি ঠিক হবে?”

চলছে কাজ, কাজের নিয়মে
ফরিদা পারভীন নিজ নামের একটি ট্রাষ্ট্রের কাজ শুরু করেছেন। এই ট্রাষ্টের মাধ্যমে লালনের গানসহ আমাদের দেশের অন্যন্য লোকজ সঙ্গীত সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। শুধু গানই নয় গানের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ করাও এই ট্রাষ্টের অন্যতম একটি কাজ বলে জানান তিনি।

সমপ্রতি ‘অচিনপাখি’ নামে একটি মিউজিক স্কুল শুরু করেছেন। এ বছরের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে যাত্রা শুরু হওয়া ‘অচিনপাখি’র শিক্ষার্থী এরই মধ্যে ৩১ জনে উন্নীত হয়েছে। তার পাশের ফ্ল্যাটেই চলছে স্কুলের সব কার্যক্রম। এই লালন কন্যার অনেক আশা রয়েছে এই স্কুলটিকে ঘিরে।
 
আরো আছে গল্প

নজরুল আর লালনের গান গেয়েই ফরিদা পারভীন খ্যাতি পেয়েছেন বিষয় এমন নয়। আধুনিক গানের ওপর বেশ ভালো দখল রয়েছে তার। ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদের নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি’র মতো অনেক জনপ্রিয় আধুনিক গান গেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ‘নিন্দার কাঁটা যদি’ গানটির জন্য ’৯৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফরিদা পারভীন।

ফুকুয়াওয়াকা পদক

’৮৭ সালে তিনি একুশে পদক পেয়েছেন। এছাড়া গত বছর জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। এই ‘ফুকুওয়াকা’ পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে কিছু ক্ষোভও রয়েছে ফরিদা পারভীনের মনে। তিনি জানালেন, “আমাদের দূর্ভাগ্য, বড় কোনো অর্জনকে আমরা সম্মান জানাতে জানি না। এত বড় একটা পুরস্কার পেলাম অথচ বিষয়টি নিয়ে এ দেশের সরকারের কোনো পদক্ষেপই দেখলাম না।”

এশিয়ার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯০ সালে ফুকুওকা শান্তি পুরস্কার প্রদান শুরু হয় জাপান সরকারের তরফে। এর আগে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের নাগরিক ড. মুহাম্মদ ইউনুসও ‘ফুকুওয়াকা’র গ্রান্ড পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এদেশের সরকারের কর্তব্য নিয়ে ফরিদা পারভীনের মনে ক্ষোভ থাকলেও তাকে পুরষ্কার দিয়ে সম্মান জানানোর সময় আমাদের দেশে নিযুক্ত সে সময়ের জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসায়াকা ইনোয়ি বলেছিলেন, “ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে লালনের গান শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করলে আমার গ্রামের কথা মনে পড়ে। চোখে ভেসে ওঠে বাতাসে ওড়া ধান ক্ষেতের ছবি। আর এ কারণেই তার গান দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ছড়িয়ে পড়েছে।”

মজার ব্যাপার হলো- জাপানে ফরিদা পারভীনের বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। জাপানের নাগরিক এইসব তরুণ ছেলেমেয়ে নিয়মিতই এদেশে এসে লালন সম্রাজ্ঞীর কাছ থেকে তালিম নিয়ে যান।

আগেই তো ছিলাম ভালো

বেশ কিছুদিন আগে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে সদ্য তৈরি করা লালন ভাস্কর্য ভাঙা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই নানা রকমের ভাস্কর্য রয়েছে। আর আমাদের দেশ থাকলে কি খুব দোষের কিছু? কারা ভাঙ্গল কী কারণে তা আমরা এখনো জানলাম না। তাদের কোন বিচারও হল না। এখন তো মনে হচ্ছে ’৭১ এর আগে ভালোই ছিলাম।” একথা বলার পর তিনি সাম্প্রতিক জীবনের নানা যন্ত্রনা এবং দু:খের কথা বলে জানান, “জিনিসপত্রের যা দাম, মেহনতি মানুষের তো বেঁচে থাকাই এখন কষ্ট। একাত্তরের আগে এতটা কষ্ট তো এদেশের মানুষের ছিল না। শুধু জিনিসপত্রের দামই নয়, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, মূল্যবোধ সবই এখন অনেক কম।’


Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
ফিরোজা বেগম
নীলুফার ইয়াসমিন
শাহ আব্দুল করিম
আব্বাসউদ্দিন আহমদ



 
  ::| Events
November 2018  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
        1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30  
 

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]