Monday, 05.20.2019, 03:57am (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
লেখক
 
আরজ আলী মাতুব্বর


আরজের বয়স যখন ১৩ তখন এই গ্রামের আবদুল করিম মুনশি নামে একজন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি তাঁর বাড়িতেই খুলে বসলেন একটি মক্তব। ধীরে ধীরে মক্তবে ভর্তি হলো অল্প কয়েকজন কিশোর। বগলদাবা করে বই-শ্লেট নিয়ে ওরা হই হুল্লোড় করে মক্তবে যাওয়া-আসা করত । তাই দেখে আরজেরও সেখানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শিখার বড় ইচ্ছে হলো। কিন্তু ভর্তি ও বইপত্রের খরচ যোগাবে কে! আরজ রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে উদাস চোখে সমবয়সী ছেলেমেয়েদের মক্তবে আসা-যাওয়া দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আরজের পড়াশোনায় আগ্রহ দেখে এবং এতিম ছেলে বলে মুনশি সাহেব তাকে তাঁর মক্তবে ভর্তি করে নিলেন বিনা বেতনে। মক্তবে ভর্তি হলো কিন্তু তার তো বইখাতা নেই। কিনে নেবার সামর্থও নেই। অথচ আর সব ছেলে-মেয়েরা দিব্যি বইখাতা নিয়ে পড়তে আসে। মাস্টার সাহেব যখন ক্লাসে পড়ান তখন ওরা সামনে বই খুলে ধরে পড়ে যায়। আরজ মনে কষ্ট নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে । অগত্যা আর কি করে! তাল ও কলাপাতা যোগাড় করে রোদের তাপে শুকিয়ে নেয় সে। ক্লাসে এই শুকনো পাতায় লেখাজোখা করে। বইয়ের অভাব আরজকে খুব কষ্ট দিত। মাকে বইয়ের কথা বলেছে। কিন্ত বই যোগাড় করে দেবার সামর্থ তো তার মার নেই।

কিন্তু মুনশি আবদুল করিমের মক্তবের অধিকাংশ পড়ুয়াই দরিদ্র কৃষকের সন্তান। অভিভাবকের ইচ্ছা ছেলেদের লেখাপড়া শেখাবে। কিন্তু কোনোভাবে বই কিনে দিলেও মক্তবের বেতন দেয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। ছাত্রদের বেতন অনাদায়ে সৃষ্টি হলো অচলাবস্থা। ফলে সেই বছরই বন্ধ হয়ে গেল মক্তবটি।

মুনশি আবদুল করিমের মক্তবের পাট চুকে গেল। সে সাথে উৎসাহী পড়ুয়া আরজের পড়াশোনাও গেল বন্ধ হয়ে। সেসময় লামচরি গ্রামে আর কোনো স্কুল-মক্তব ছিল না। অন্য গ্রামে একটা ছিল । কিন্তু সেখানেও পড়ার জন্য বেতন প্রয়োজন। আবদুল করিম মুনশির মক্তবে শেখা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, বানানকলা টুকুই আরজের সম্বল হলো। এর পরের বাকি জীবনে তার পড়ালেখা হয়েছে পৃথিবীর পাঠশালায়। যে পাঠশালায় নেই কোন নির্দিষ্ট গন্ডি। নেই বই-খাতা হাতে নিয়ে ঢং ঢং ঘণ্টা বেজে ওঠার সাথে সাথে ক্লাশে প্রবেশ করা। আরজ আলী মাতুব্বর ভর্তি হলেন এই পৃথিবীর পাঠশালায়।

আনুষ্ঠানিক অথবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অক্ষর জ্ঞানটুকু সম্বল করে অদম্য স্পৃহায় পুস্তক পাঠে মনোনিবেশ করলেন আরজ। বিভিন্ন বিষয়ী বই।

কর্মজীবন: ১৩২১ সালে আরজ আলীর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বন্ধ হলে কিছুকাল ইতস্তত ঘোরাফেরা করে ১৩২৬ সালে নিয়োজিত হন পৈতৃক পেশা কৃষিকাজে। কৃষিকাজের ফাঁকে ফাঁকে আরজ আলী আমিনের কাজ (জমি জরিপকারী বা ইংরেজিতে ল্যান্ড সার্ভেয়ার) শিখে ফেলেন। ক্রমে এই কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ গাঢ় হতে থাকে। পরবর্তীকালে জমি জরিপের কাজকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৩৩২ সালে আমিনি পেশা শুরু করেন। এই পেশায় তাঁর দক্ষতার কথা উত্তরোত্তর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে খুব অল্পকালের মধ্যেই আমিন পেশায় তাঁর সাফল্য করায়ত্ত হয়। গাণিতিক ও জ্যামিতিক নিয়মের ওপর অসম্ভব দখল অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে সূক্ষ্ম মাপ ও বন্টনে তাঁর বিস্ময়কর দক্ষতা সুবিদিত। সূক্ষ্মভাবে মাপজোকের কৃতিত্বের কথা বরিশাল অঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

সংসার জীবন: ১৩২৯ সালের ১৯ আগ্রহায়ণ ১৩ বছর বয়সের মেয়ে লালমন্নেছার সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেয় ১টি ছেলে ও ৩টি মেয়ে। পরে আরেকবার পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন আরজ আলী মাতুব্বর। পার্শ্ববর্তী গ্রামের আবদুল করিম মৃধার মেয়ে সুফিয়া খাতুনকে আরজ বিয়ে করেন ২৯ আষাঢ় ১৩৪০ সালে। সুফিয়া খাতুনের ঘরে জন্ম নেয় ৬টি ছেলেমেয়ে এর মধ্যে ৪টি মেয়ে এবং দুটি ছেলে । সব মিলিয়ে মোট ১০ জন ছেলে-মেয়ের জনক ছিলেন আরজ আলী মাতুব্বর।

লাইব্রেরী: বাংলা ১৩৩০ সাল থেকে আরজ আলী ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। বন্ধু-স্বজনদের কাছে চেয়ে নেয়া এবং উপহার পাওয়া সামান্য কটি বই জমেছিল। এছাড়া, পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য কৃষিকাজে যে শ্রম দেয়া দরকার তার চাইতে অধিক সময় শ্রম দিয়ে যে বাড়তি আয় হতো সেই অর্থে বই কিনতেন। সামান্য পরিমাণ অর্থও বাজে ব্যয় না করে শুধুই বই কিনেছেন। এভাবে আঠারো বছর বই কিনে সংগ্রহের ফলে বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় নয় শ'তে। বই গুছিয়ে রাখার জন্য আলমারি কেনার সামর্থ্য না হওয়ায় বৈঠকখানার ঘরের তাকে সাজিয়ে রাখা ছিল বইগুলো। ১৩৪৮ সালের ১২ জ্যৈষ্ঠ এক ভয়াবহ বিনাশী ঘূর্ণিঝড় প্রবাহিত হয় অই এলাকার ওপর দিয়ে। এই সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় আরজদের বৈঠকখানার ঘর এবং সে সাথে বৈঠক ঘরে রাখা সবগুলো বই উড়িয়ে নিয়ে যায়। একটি বইও অক্ষত উদ্ধার করতে পারেন নি পরে। পরদিন পথঘাটে বইয়ের দু চার খানা ছেঁড়া পাতা কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। মা মারা যাবার পর মাতৃশোকে কান্না আসে নি আরজের। কিন্তু এতকালের সংগৃহীত বইগুলোর শোকে আরজ কেঁদেছিলেন খুব। বইয়ের শোকে আরজ মর্মাহত হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু দমে যাননি। জীবনের এ এক মর্মান্তিক বাস্তবতার পরম অভিজ্ঞতা বলে মনকে প্রবোধ দিয়ে পুনরায় বই সংগ্রহে ব্রতী হয়েছেন। এবারও একই প্রক্রিয়া অর্থাৎ বাড়তি শ্রম, বাড়তি আয় এবং তা থেকে বই ক্রয়। নিরলস হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন। এভাবে ১৭ বছর পর তার বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় চারশ। ঠিক এ সময় পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিম হয়। ১৭ বছরের ব্যবধানে আরেক দফা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। উড়িয়ে নিয়ে যায় একই বৈঠকখানার ঘর এবং একইভাবে রাখা সংগৃহীত বইগুলোও। এই ঘটনা ঘটে ১৩৬৫ সালের ৬ কার্তিক। শোকে-দুঃখে-ক্ষোভে আরজ এবার প্রতিজ্ঞা করেন, 'না, আর বই সংগ্রহ নয়, বই সংগ্রহের আগে বই সংরক্ষণের জন্যে উপযুক্ত বাড়ি বানানো চাই।' হ্যাঁ, সেদিনের দুঃখ-তাপে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, পরবর্তীকালে তা রক্ষা করেছিলেন আরজ। দীর্ঘ একুশ বছর কঠোর পরিশ্রম করে ক্রমে সঞ্চিত অর্থে শুধুমাত্র বই রাখার জন্যই মজবুত দালান ঘর বানিয়েছিলেন। ১৩৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শুধুমাত্র বই সাজানো একটি ঘর-আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি।

লেখালেখি: লেখালেখি সূচনার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ১৫ খানি পান্ডুলিপি রচনা করে গেছেন। এর মধ্যে জীবদ্দশায় প্রকাশিত ৪টি বইয়ের নাম 'সত্যের সন্ধান', 'অনুমান', 'সৃষ্টি রহস্য' ও 'স্মরণিকা'। মৃত্যুর কিছুকাল পরে প্রকাশিত হয় আরেকটি বই। এর নাম 'মুক্তমন'।
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এই বইগুলো ছাড়াও রয়েছে আরো কয়েকটি পান্ডুলিপি। এগুলোর নাম হচ্ছে- সীজের ফুল (কবিতা), সরল ক্ষেত্রফল (গলিত), জীবন বাণী (আত্মজীবনী), ভিখারীর আত্মকাহিনী (আত্মজীবনী), কৃষকের ভাগ্য গ্রহ (প্রবন্ধ), বেদের অবদান (প্রবন্ধ), পরিচয়, আমার জীবন দর্শন। এছাড়া, ঘটনাবলী, জন্ম বংশাবলী, বংশ পরিচয়, অধ্যয়নসার, ডাইরী ইত্যাদি পান্ডুলিপিও সংরক্ষিত রয়েছে।

মৃত্যু: আরজ আলী মাতুব্বর ১ চৈত্র ১৩৯২ সালে ৮৬ বছর বয়সে বরিশাল মেডিক্যাল হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: আরজ আলী মাতুব্বর, লেখক-আইয়ুব হোসেন, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী

Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
বদরুদ্দীন উমর



 
  ::| Events
May 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30 31  
 
::| Hot News
হুমায়ূন আহমেদ
অনন্য আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
দ্বিজেন শর্মা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]