Monday, 03.25.2019, 08:57pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
লেখক
 
মোহাম্মদ রওশন আলী


মোহাম্মদ রওশন আলী সিরাজগঞ্জ জেলার (সাবেক পাবনা) অন-র্গত উল্লপাড়া উপজেলার নরসিংহপাড়া (রোশনীপাড়া নামে পরিচিত) গ্রামে ১৯৩২ সালে ১৬ মে এক মধ্যবিত্ত ধর্মভীরু মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শীতলউদ্দিন আখন্দ, মাতা আমিরুন্নেছা। শৈশবে গ্রাম্য পাঠশালায় বড়ভাই আলহাজ্ব আবদুল আজিজ আখন্দের কাছে পড়াশুনায় হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে বড় পাঙ্গাসী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বংকিরহাট মিডল ইংলিশ স্কুল ও মোহনপুর কে. এম. ইনস্টিটিউশনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। স্কুলজীবনে প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম স'ান অধিকার এবং স্কুল ফার্স্টবয় নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালে ইস্ট বেঙ্গল সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ড, ঢাকা অধীনে আরবীতে লেটারসহ ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইন এবং পরে রাজশাহী গভর্ণমেন্ট কলেজ হতে বিএ পাশ করেন। উভয় শ্রেণীতে তিনি সরকারি বৃত্তি লাভ করেন। তারপর তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে এমএ এবং এলএলবি কোর্সে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে করাচীতে পাকিস-ান সরকারের অধীনস' প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিসাবরক্ষণ বিভাগে যোগদান করেন। করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এস. এম. ল’ কলেজে সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়ে ১৯৬১ সালে এল. এল. বি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ পড়েন। ১৯৬২ সালে আইন ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে চাকরিতে ইস-ফা দেন কিন' জরুরী চাকরিবিধি মোতাবেক পাকিস-ান সরকার তাঁর ইস-াফা না-মঞ্জুর করেন। করাচিতে চাকরিতে থাকা অবস'ায় তাঁর মাতা ১৯৬১ সালে ইনে-কাল করেন। তিনি লন্ডনে উচ্চ শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে পূণরায় চাকরিতে ইস-ফা দেন। এবার তাঁর ইস-ফা মঞ্জুর হয়। তিনি আইন ব্যবসার উপলক্ষে পাবনা জজ কোর্টে যোগ দেবার উদ্দেশ্যে যান। এরই মধ্যে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চাকরি লাভের অনুমোদন লাভ করেন। কিন' সিদ্ধান- পরিবর্তন করে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯৬৪ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি লন্ডন যান। লন্ডনে প্রথম একটি আন-র্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এবং পরে ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসে হাউজিং এন্ড লোকাল গভর্ণমেন্ট মন্ত্রণালয়ের হাউজিং ডিভিশনে কুইন অ্যানি ম্যানশনে অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। তিন বছর একাধারে কর্মরত থাকায় তিনি গ্রেটার লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলের এডুকেশন গ্রান্ট লাভ করেন। এই সুযোগে তিনি লন্ডন ইউনিভারসিটির অধীনে স্কুল অব অরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজে এল. এল. এম কোর্স সমাপ্ত করেন। সঙ্গে তিনি বার-অ্যাট ল’ অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি ব্যারিস্টারী পাশ করেন এবং কল-টু-দি বার সনদ লাভ করেন। লন্ডনের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার আর. জে. মেরেট সাহেবের শিক্ষানবীশ ছিলেন এবং হাইকোর্ট অব জুডিকেচারের কুইন্স বেঞ্চ ডিভিশনে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তদাবধি তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের (হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগে) আইন পেশায় কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও আপীলেট ডিভিশনের সিনিয়র এডভোকেট ছিলেন।

পাকিস-ান সরকারের অধীনে চাকরিকালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে পর পর তিনবার সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস-ানে অবস'ানকালে প্রবাসী পূর্ব পাকিস-ান সমিতির এবং লন্ডনে অবস'ানকালে ইনস অব কোর্ট পাকিস্তান সোসাইটি ও পাকিস-ান ইয়ুথ ফেডারেশনের সংগে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। অধিকন' তিনি লন্ডনস' পাকিস-ান স্টাডি সার্কেলের যথাক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর আইন ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন ও আছেন। তিনি সাবেক পাবনা সমিতির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সোসাইটির সেক্রেটারী, বাংলাদেশ-আরব মৈত্রী সমিতির সহ-সভাপতি, বিশ্বমুসলিম শানি- পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন। সাবেক পাবনা সমিতি, সিরাজগঞ্জ জেলা সমিতি ও বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য তিনি। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা সিমিতির গঠনতন্ত্র প্রনেতা তিনি।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রওশন আলী একজন লেখক ও সাহিত্যিক এবং সংবাদপত্র প্রকাশের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি পাকিস-ান ও ইংল্যান্ড থাকাকালীন ইংরেজি ও বাংলা পত্র-পত্রিকায় ও সাময়িকীতে বহু কবিতা ও প্রবন্ধ লেখেন তন্মধ্যে ÔThe Makers of Ideas', 'Constitutions and Revolutions', 'The National Party and the proposed Manifesto : a few suggestions', 'The Structure of Pay and the Uniform Single National Pay Scale' Ges 'The Police Administration and Criminal Justice in Bangladesh', 'The Oil interest in the Middle East and the Gulf war. The role of Muslim Scholars in the Development of Human Civilization and Culture', বাংলাদেশের বন্যা : তার সমস্যা ও সমাধান, শিশু শিক্ষা ও সমস্যা, নির্বাচনী সমস্যার সমাধান, মানবাধিকার-উন্নত ও অনুন্নত বিশ্বে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত পুস-ক ও পাণ্ডুলিপির মধ্যে ‘সোভিয়েট রাশিয়ায় ইসলাম ও মুসলমান’, ‘বাংগালীর ডাক’, ‘তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া’, ‘প্রাচীন বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি-ধর্ম’, ‘দেশ পরিচয়’, ‘মানবাধিকারে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ)’, ‘ফারুকী আমলে আইনের শাসন’, ‘ইসলাম, তওহদি ও মুসলিম’ ধর্ম ও চিন-াজগতে এক অনন্য ও বিশিষ্ট অবদান।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রওশন আলী-র The National Party and the Proposed Manifesto : a few Suggestions. Printed & Published in the The Daily Morning News on 12-3-1973) এর ফলশ্রুতিতে ‘ইসলামী সাম্যবাদী দল’ ১৯৭৮ সালের ২১ জুলাই প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। তিনি ইসলামী সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশকে ৪টি প্রদেশে ভাগ করে শাসনকার্য পরিচালনার প্রস্তাব করেন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে পার্লামেন্টারী পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একক প্রার্থীতা প্রত্যাহারে ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সদালাপী, বিনয়ী, মিষ্টভাষী, ন্যায়নিষ্ঠ, যুক্তিবাদী এবং একজন উদারমনা বিশিষ্ট ইসলামী চিন-াবিদ। তিনি দিনাজপুর শহরের নিমনগরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুদ্দিন আহমদের তৃতীয়া কন্যা জাহানারা বেগম ওরফে জাহানের সঙ্গে ১৯৫৭ সালে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। পাকিস-ান ও ইংল্যান্ডে থাকাকালীন উচ্চশিক্ষা লাভে তাঁর যথেষ্ট অবদান ছিল। বই সংগ্রহ, জ্ঞানার্জন এবং পাঠাভ্যাস তাঁর বিশেষ সখ।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রওশন আলী ১৪ ডিসেম্বর ২০০৭ হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিমানে মক্কা যাত্রা করেন। তিনি হজ্ব-এর সব আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে মদিনার উদ্দেশে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলেন। সে সময় হৃদরোগে আক্রান- হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২১ ডিসেম্বর ২০০৭ শুক্রবার ঈদ-উল-আজহার দিনে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় সৌদি আরবের মক্কায় হজ্বব্রত পালনরত অবস'ায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইনে-কাল করেন (ইন্নালিল্লাহে...........রাজেউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৬ বছর। তাঁকে মক্কার জান্নাতুল মোয়াললায় দাফন করা হয়েছে।

আমৃত্যু তিনি চাকরির পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘বাংলা বিজ্ঞাপন’ ও সাপ্তাহিক ‘চলনবিল বার্তা’-এর প্রধান উপদেষ্টা এবং উল্লাপাড়া হাবিবুদ্দিন আহমদ পাবলিক লাইব্রেরির উপদেষ্টা ছিলেন।

তিনি স্ত্রী, একমাত্র পুত্র মোস-ফা জাহাঙ্গীর আলম (যিনি সাপ্তাহিক ‘বাংলা বিজ্ঞাপন’ ও সাপ্তাহিক ‘চলনবিল বার্তা’র সম্পাদক) ও তিন কন্যা শাহিন আফরোজ,  এডভোকেট শিরীন আফরোজ শেলী ও, ডা: শামীম আফরোজ আলভী, নাতি-নাতিনী, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

ব্যারিস্টার রওশন আলীর স্মরণে ‘রওশন-জাহান ফাউন্ডেশন’ এর অর্থায়ণে নিজ গ্রাম নরসিংহপাড়ার সুদৃশ্য ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ স'াপন করা হয়েছে।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন
জাহানারা ইমাম
মুনতাসীর মামুন
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মফিদুল হক
সৈয়দ আনসার মোহাম্মদ মোখতার
আরজ আলী মাতুব্বর
বদরুদ্দীন উমর



 
  ::| Events
March 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
          1 2
3 4 5 6 7 8 9
10 11 12 13 14 15 16
17 18 19 20 21 22 23
24 25 26 27 28 29 30
31            
 
::| Hot News
হুমায়ূন আহমেদ
অনন্য আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
দ্বিজেন শর্মা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]