Sunday, 11.18.2018, 03:00pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
রাজনীতিবিদ
 
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক




জন্ম ও জন্মস্থান:

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ০৪ অক্টোবর ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার অন্তর্ভুক্ত এবং হালদা নদীর তীরে অবস্থিত ‘উত্তর বুড়িশ্চর’ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব এস এম হাফেজ আহমেদ (ডিসেম্বর ২০১০ এ মরহুম) এবং মাতা আলহাজ্ব সামসুন্নাহার। তাঁর শৈশব কাটে নিজ গ্রামে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত, ‘বন্দর উত্তর আবাসিক এলাকা’ বা পোর্ট নর্থ কলোনী-তে। শিক্ষা জীবন: ১৯৬২ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দি ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ’ (১৯৬৪ সাল থেকে নাম: ‘ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ’)-এ ভর্তি হন এবং পরবতী ৬ বছর অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৮ সালে এই কলেজ থেকেই কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড-এর অধীনে, মানবিক বিভাগে বোর্ড-এর মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করত: এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে (সম্মান) ভর্তি হন। সে সময় তিনি তখনকার আমলের জিন্নাহ হল (বর্তমানে সূর্যসেন হল) এর আবাসিক ছাত্র ছিলেন। কিন্তু, অধ্যয়ন অসমাপ্ত রেখেই জানুয়ারি ১৯৭০ এর শুরুতে ‘পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমি কাকুল’-এ যোগদান করেন ২৪তম ওয়ার কোর্স-এর সদস্য হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া অসম্পূর্ণ থাকার কারণে ইবরাহিম অতৃপ্ত ছিলেন। তাই ১৯৭৪ সালের শেষাংশে প্রাইভেট প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পাশ করেন। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে ৫৪ বছর বয়সে, মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত স্টাফ কলেজের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার-ইন-ডিফেন্স স্টাডিজ বা সংক্ষেপে এমডিএস, পাশ করেন। জ্ঞান-পিপাশু জেনারেল ইবরাহিম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আওতায় পিএইচডি প্রোগ্রামের একজন গবেষক। সামরিক জীবন শুরু: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখে তিনি জানুয়ারি ১৯৭০ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তরুণ ইবরাহিম সেপ্টেম্বর ১৯৭০-এ পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমি কাকুল-এর ২৪তম ওয়ার কোর্স-এ সর্বোত্তম ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে তথা মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করত: পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। প্রথম স্থান অধিকারের কারণে, তিনি ‘সোর্ড অফ অনার’ এর সমতুল্য, ওয়ার কোর্সগুলোর জন প্রযোজ্য সম্মানজনক পুরষ্কার ‘কমান্ডার-ইন-চীফস কেইন’ লাভ করেন। প্রথম স্থান অধিকার করার সুবাদে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রেওয়াজ অনুযায়ী, তিনি তাঁর পছন্দের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান তথা ১৯৭০ এর সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ঐতিহ্যবাহী ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর ২য় ব্যাটালিয়ানে যোগদান করত: চাকরি শুরু করেন। ঐ সময় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অবস্থান বা আবাসন ছিল ঢাকা মহানগরীর অল্প উত্তরে অবস্থিত, বর্তমানের গাজীপুর জেলার সদর দপ্তর ও তখনকার আমলের থানা সদর দপ্তর জয়দেবপুর নামক স্থানে। ইতিহাসখ্যাত ভাওয়াল পরগণার জমিদার বা ভাওয়াল-রাজাদের রাজপ্রাসাদে বা রাজবাড়িতেই দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল থাকতো।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ:

দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বা সংক্ষেপে সেকেন্ড বেঙ্গল-এর সঙ্গে এবং ৩ নম্বর সেক্টরের ভৌগলিক এলাকায় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণ নয় মাস অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর কেএম সফিউল্লাহ। আগস্ট ১৯৭১ থেকে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক ছিলেন তৎকালীন মইনুল হোসেন চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন সেক্টর-ভিত্তিক সংগঠন ও পরিচালনার সময় সফিউল্লাহ ৩ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হন। পরবর্তীতে সফিউল্লাহ ‘এস ফোর্স’ নামক ব্রিগেড সমতুল্য সংগঠনের কমান্ডার হন। দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যুদ্ধকালে সাহসিকতাপূর্ণ কর্ম ও নেতৃত্বের জন্য তিনি ‘বীর প্রতীক’ খেতাব প্রাপ্ত হন। যুদ্ধ পরবর্তী সেনাবাহিনীর চাকরি: যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি কোম্পানী কমান্ডার, ব্যাটালিয়ান কমান্ডার, ব্রিগেড কমান্ডার এবং ডিভিশন কমান্ডার তথা ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বা জিওসি-এর দায়িত্ব পালন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকরি ও শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদান:

১৯৭৫ সাল থেকে, উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর এক অংশের সশস্ত্র বিদ্রোহ (বা ইংরেজিতে ইনসার্জেন্সী)-এর কারণে সংঘাত-সংকুল পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক এবং অধিনায়ক হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চাকরি করেন। ঐ সংঘাত-সংকুল ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে কর্নেল ইবরাহিম রাঙামাটিতে (১৫ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত) এবং খাগড়াছড়িতে (২১ ডিসেম্বর ১৯৮৭ থেকে ২৭ জুন ১৯৮৯ পর্যন্ত) ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। বস্তুত, দায়িত্ব পালনের একেবারেই শেষ পর্যায়ে ২৫ জুন ১৯৮৯ তারিখের অপরাহ্নে তিনি ব্রিগেডিয়ার র‌্যাংকে পদোন্নতি পান। উল্লেখ্য যে, ঐ ২৫ জুন ১৯৮৯ তারিখে, পার্বত্য জেলাগুলোতে স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠনের নিমিত্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের হুকুমে, স্বাভাবিক সামরিক কর্তব্যের অতিরিক্ত তিনি নিজ মেধা ব্যয় করে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে শান্তিপ্রক্রিয়ার অনুকূলে, মূলত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। খাগড়াছড়িতে বিদ্যমান পরিবেশের প্রভাবে, রাঙামাটি ও বান্দবান পার্বত্য জেলায়ও শান্তির অনুকূলে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তখনকার আমলে কর্নেল ইবরাহিম ছিলেন সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন সফল ব্রিগেড কমান্ডার এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে শান্তি স্থাপনের অন্যতম অনুঘটক। সরকারি নীতিমালার আওতায়, তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে শান্তি আলোচনায়ও একাধিকবার সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং একাধিকবার বৃহত্তর সরকারি প্রতিনিধি দলের উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্রোহ বা ইনসার্জেন্সী-প্রবণ এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শর্ত মেনে, বিদ্রোহীদেরই নিরাপত্তার আওতায়, বেসামরিক পোষাকে অস্ত্রবিহীন অবস্থায়, শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া পৃথিবীর সবখানেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত ও বিবেচিত। কর্নেল ইবরাহিম এই ঝুঁকি নিয়েই গভীর জঙ্গলে শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। যেহেতু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জীবনের ঝুঁকি নেওয়াটি সাদামাটা ব্যাপার হিসেবেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, সেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামেও দেশের খাতিরে জীবনের ঝুঁকি নেওয়াটি তাঁর জন্য কোনো কঠিন ব্যাপার হয়নি। ঐ সময়ের শান্তি প্রক্রিয়ার ফসল স্বরূপ, ১৯৮৮ সালের শেষাংশে তিনটি পার্বত্য জেলার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বাংলাদেশ সরকারের সমঝোতা স্মারক বা মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্টানডিং স্বাক্ষরিত হয়। এরই পরবর্তী ধাপে, ১৯৮৯ সালের ফেব্র“য়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কর্তৃক আলাদা আলাদা আইন করত: প্রতিটি পার্বত্য জেলায় একটি করে স্থানীয় সরকার পরিষদ স্থাপন হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর হাতে প্রথমবারের মতো স্বায়ত্ত্বশাসন বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুইশত বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জনগণকে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এই প্রক্রিয়ায়, সরেজমিনে বা মাঠে ময়দানে প্রধানতম অবদান রাখেন তখনকার আমলের কর্নেল ইবরাহিম। ইবরাহিমকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক অঙ্গনে ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ইবরাহিম এর উপরে নেতৃত্ব প্রদান করেন তখনকার আমলের চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম ও তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল এ.কে. খোন্দকার বীর উত্তম এর নেতৃত্বাধীন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’  বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ উদার চিত্তে জাতীয় কমিটিকে, মেজর জেনারেল সালামকে এবং কর্নেল ইবরাহিকে আস্থায় নিয়েছিলেন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বর্তমানের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইবরাহিম, সেই আমলের আনুষ্ঠানিক গুরুজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১৯৮৯ সালে স্থাপিত স্থানীয় সরকার পরিষদগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এবং সাফল্য ও ত্র“টি-বিচ্যুতিকে মূল্যায়ন করত:, ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় কমিটি এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতাদেশ মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সামরিক লেখাপড়া:

উচ্চতর সামরিক পেশাগত লেখা-পড়ার অংশ হিসেবে লে. কর্নেল ইবরাহিম ১৯৮২-৮৩ সালে ক্যাম্বারলি-তে অবস্থিত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘দি রয়েল স্টাফ কলেজ’-এ সুনামের সঙ্গে ‘স্টাফ কোর্স’ সম্পন্ন করেন এবং ব্রিগেডিয়ার ইবরাহিম ১৯৮৯-৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের কারলাইল ব্যারাকস (তথা কারলাইল সেনানিবাস)-এ অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর বিখ্যাত ‘ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি ওয়ার কলেজ’-এ সুনামের সঙ্গে ‘আমি ওয়ার কোর্স’ সম্পন্ন করেন। আলোচ্য দুটি প্রশিক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনীর নিয়ম মোতাবেক তিনি নিজ নামের পরে ‘এডব্লিউসি’ এবং ‘পিএসসি’ ডিগ্রী বা শব্দযুগল ব্যবহার করার অধিকার পান।

কমান্ড বা অধিনায়কত্ব:

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে পদাতিক (ইংরেজিতে ‘ইনফেনট্রি’) বাহিনীতে চারটি রেজিমেন্ট ছিল যথা বালুচ রেজিমেন্ট, পাঞ্জাব রেজিমেন্ট, ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। কমিশন পরবর্তী সময়ে কয়েক মাস, স্বাভাবিক ঐতিহ্যে, ইবরাহিম দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সি (বা চার্লি) কোম্পানীর একটি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। অতঃপর তিনি ঐ একই সি কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার হন এবং মুক্তিযুদ্ধকালেও ঐরূপ কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে এপ্রিল ১৯৭২ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সময়কালে অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ অফিসার না থাকায় তিনি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৭৬ এর জুলাই থেকে ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর উপ-অধিনায়ক ছিলেন। এপ্রিল ১৯৭৯ থেকে অক্টোবর ১৯৮০ পর্যন্ত তিনি একই সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক ছিলেন। জানুয়ারি ১৯৮৭ থেকে জুলাই ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনি পঁচিশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক ছিলেন। জুলাই ১৯৮৭ থেকে ডিসেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড এবং ডিসেম্বর ১৯৮৭ থেকে জুন ১৯৮৯ পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড-এর ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯৫ থেকে ৩ জুন ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি যশোরে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বা জিওসি ছিলেন।

কমান্ডের বাইরে দায়িত্ব পালন:

কমান্ড বা অধিনায়কত্বের বাইরেও জেনারেল ইবরাহিম দৃষ্টি আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র তিনটি উদাহরণ উল্লেখ করা হল যথা: ঢাকা মহানগরের এক অংশে তথা মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত প্রতিরক্ষা বাহিনী কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ-এর প্রশিক্ষক, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ডাইরেক্টর অব মিলিটারী অপারেশনস এবং চট্টগ্রাম মহানগরের কিঞ্চিত উত্তরে ভাটিয়ারীতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী’র কমান্ডান্ট। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অবসরে যাওয়ার অব্যাবহিত পূর্বে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি ঢাকা মহানগরে অবস্থিত সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বা সংক্ষেপে বিআইআইএসএস)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্তি: ১৯৯৬ সালের মে মাসের ২০ তারিখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান লে. জেনারেল এ এস এম নাসিম বীর বিক্রম এবং তৎকালীন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুর রহমান বিশ্বাস এর মধ্যে একটি আধা সাংবিধানিক আধা নিয়ন্ত্রণমূলক সংকট বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। বিস্তারিত বিবরণ জেনারেল ইবরাহিম কর্তৃক লিখিত পুস্তকে আছে। ঐ ঘটনার পর ৭ জন অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৮ জন অফিসারকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়। ১৫ জুন ১৯৯৬ তারিখে, বিদেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের পর পবিত্র ওমরাহ পালনের নিমিত্তে সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীতে উপস্থিত হওয়া মাত্রই জেনারেল ইবরাহিম নিজের বাধ্যতামূলক অবসর আদেশ পান। পরবর্তী এক বছর তিনি লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট (এলপিআর) বা প্রাক-অবসর ছুটি ভোগ করেন।


অবসর জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক অরাজনৈতিক কর্মসূচী:

অবসর জীবনে আল্লাহ-প্রদত্ত মেধা ও কর্মজীবন-লব্ধ অভিজ্ঞতাকে দেশবাসীর কল্যাণে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে, মেজর জেনারেল ইবরাহিম ‘সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড পীস স্টাডিজ’ (সংক্ষেপে সিএসপিএস) নামক (প্রাইভেট সেক্টরে) একটি গবেষণা কেন্দ্র বা থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৩ সালের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত চার বছরের অধিককাল ঐ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অফ গভর্নর্স এর সদস্য ছিলেন এবং একইসাথে প্রথম নির্বাহী পরিচালক বা এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর এর দায়িত্বও পালন করেন। অতঃপর তিনি সিএসপিএস থেকে অব্যাহতি নেন। এপ্রিল ২০০৩ থেকে পরবর্তী আড়াই বছর তিনি ‘ইসলামিক ইন্সটিটিউট ফর রিসার্চ এন্ড প্রোপাগেশন অফ দি টিচিংস অফ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)’ (বা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রচার ইন্সটিটিউট) নামক প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটিকে সংক্ষেপে ‘ইনস্টিটিউট অফ হযরত মোহাম্মদ (সা.)’ বলা হতো। উল্লেখ্য যে, সিএসপিএস এবং ‘ইনস্টিটিউট অফ হযরত মোহাম্মদ (সা.)’—উভয় প্রতিষ্ঠান সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত ছিল। উভয় প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল ঢাকা মহানগরীর বনানীতে। ‘ইনস্টিটিউট অফ হযরত মোহাম্মদ (সা.)’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার সুবাদে বাংলাদেশের বৃহত্তর ধর্মীয় পরিমণ্ডলে এবং ওলামা-মাশায়েখগণের মধ্যে তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। এই পরিচিতির প্রেক্ষাপটে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান, বিশেষত চট্টগ্রামে। ২০০৬-০৭ সালে তিনি ‘মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন’ নামক অরাজনৈতিক, সামাজিক-সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ‘মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণের মধ্যে এবং ধর্ম-অঞ্চল-পেশা নির্বিশেষে নাগরিকগণের মধ্যে সততা, গণতান্ত্রিক চর্চা, সমঝোতা ও জাতীয় ঐক্যের মানসিকতা জোরদার করা।

বিদেশ ভ্রমণ:

চাকরি জীবনে পেশাগত কারণে এবং অবসর জীবনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞান ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ইরাক, জার্মানী, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, কাতার, অষ্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশ একাধিকবার করে সফর করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনেকবার পবিত্র উমরাহ্-হজ্ব করার জন্য এবং ১৯৯২ সালে স্ব-স্ত্রীক পবিত্র হজ্জ্ব করার জন্য তিনি সৌদি আরব গমন করেন; তার জন্য তিনি সর্বদাই মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞ।

পত্রিকা ও টেলিভিশনে উপস্থিতি:

বিগত অনেক বছর ধরেই মেজর জেনারেল ইবরাহিম একাধিক জাতীয় ভিত্তিক দৈনিক সংবাদ পত্রে জাতি-গঠন, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখে পাঠককুলের নিকট অতি সুপরিচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিককালে তিনি রাজনৈতিক বিষয়েও কলাম লিখছেন। তিনি ইংরেজী দৈনিকে বা সাপ্তাহিক পত্রিকায়ও অনিয়মিতভাবে কলাম লিখেন। একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়-ভিত্তিক ‘টক-শো’তে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করে বা টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে, তিনি দর্শককুলের নিকট একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধাগণের সঙ্গে মেলামেশা:

বিগত বছরগুলোতে তিনি আপামর মুক্তিযোদ্ধাগণের সঙ্গে বিবিধ কর্মকাণ্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকেছেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ এর নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮ বছর, তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ’ নামক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন (যখন ঐ পরিষদের সভাপতি ও মহাসচিব ছিলেন যথাক্রমে মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াজ আজিজ উলফাত এবং মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান)। পরবর্তী চার বছর যাবত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’ নামক মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিগত বছরগুলোতে, বিশেষত রাজনৈতিক দল করার পূর্বেকার বছরগুলোতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাগণের অনুষ্ঠানমালায় বা কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে জড়িত থেকেছেন।

পুস্তক রচনা ও প্রকাশনা:

জেনারেল ইবরাহিম কর্তৃক লিখিত পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কলামগুলোর তিনটি সংকলন ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও জেনারেল ইবরাহিম একাধিক মৌলিক বা প্রায়-মৌলিক গবেষণাধর্মী বা ইতিহাসধর্মী বই লিখেছেন যেগুলো স্বনামধন্য প্রকাশকগণ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বইগুলোর একটি তালিকা, প্রকাশের ক্রম অনুযায়ী এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রথমে বইয়ের নাম, অতঃপর প্রকাশের বছর ও প্রকাশকের নাম উল্লেখ করা হল।

(১) ‘সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আটাশ বছর’, মওলা ব্রাদার্স ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯।

(২) ‘পাবত্য চট্টগ্রাম: শান্তি প্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন, মওলা বাদ্রার্স ফেব্রুয়ারি ০০১/২০১১।

(৩) ‘ছোটদের প্রিয় জিয়া’, সূচীপত্র ফেব্র“য়ারি ২০০২।

(৪) কলাম সংকলন ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক’, এ্যাডর্ন পাবলিকেশন জুলাই ২০০২।

(৫) ‘বিপ্লব ও সংহতি: সুসংহত বাংলাদেশের সন্ধানে’, এ্যাডর্ন পাবলিকেশন অক্টোবর ২০০২।

(৬) কলাম সংকলন ‘বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধা পরাজিত নাগরিক’, অনন্যা ফেব্রুয়ারি ২০০৬।

(৭) ইংরেজি ভাষায় লিখিত কলামগুলোর সংকলন ‘পীস ইজ পসিবল’, অনন্যা ফেব্রুয়ারি ২০০৭।

(৮) গবেষণাধর্মী সংকলন ‘জীবন সংগ্রামে জয়ী যারা’, অনন্যা ফেব্রুয়ারি ২০০৭।

(৯) কলাম সংকলন ‘শান্তি কত দূর’, বাংলাপ্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।

(১০) বাংলায় লিখিত বই: ‘ব্যাটলস অব ইসলাম’ বা ইসলামের ইতিহাসের যুদ্ধগুলো, অনন্যা ফেব্রুয়ারি  ২০০৯।

(১১) ইবরাহিম এর ব্যক্তিগত জীবনীমূলক এবং বাংলাদেশ সমকালীন ইতিহাসের বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ ‘মিশ্র কথন’, অনন্যা ফেব্রুয়ারি  ২০১১।

বইগুলোর প্রাপ্তিস্থান:

ঢাকা মহানগরের কিছুসংখ্যক সম্ভ্রান্ত বা প্রতিষ্ঠিত পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে এই পুস্তকগুলো পাওয়া যায়। তবে কয়েকটি পুস্তক এখন ‘আউট অফ প্রিন্ট’ বা আর বাজারে নেই। জনপ্রিয় পুস্তকগুলো পাওয়ার একটি নিশ্চিত ঠিকানা হল, প্রকাশকের দপ্তর থেকে। মাওলা ব্রাদার্সের ফোন নম্বর: ৭১৭৫২২৭, ৭১১৯৪৬৩, অনন্যার ফোন নম্বর: ৭১১১৬৪৩ এবং এডর্ন পাবলিশেন্স এর ফোন নম্বর: ৯৩৪৭৫৭৭, ঢাকা মহানগরের বেইলী রোডে (অপর নাম নাটক স্মরণী) অবস্থিত সাগর পাবলিশার্স (ফোন নম্বর: ৯৩৫৮৯৪৪) এবং পুরাতন বিমান বন্দরের নিকট প্রধান সড়কে অবস্থিত বুক ওয়ার্ম (ফোন নম্বর: ৯১২০৩৮৭)-এ জনপ্রিয় পুস্তকগুলো পাওয়া যায়।

জীবিকা নির্বাহ:

জীবিকা নির্বাহের জন্য জেনারেল ইবরাহিম দু’একটি ব্যবসা’র সঙ্গে জড়িত।

পারিবারিক জীবন:

তিনি ঢাকা মহানগরীর ডিওএইচএস মহাখালীতে স্বপরিবারে বসবাস করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ই নভেম্বর, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া গ্রামে ভূঁইয়া পরিবার থেকে বিয়ে করেন। জেনারেল ইবরাহিম এর শ্বশুর ছিলেন আলহাজ্ব সিরাজউদ্দিন ভূঁইয়া (২০০৮ সালে মরহুম); এবং তাঁর শ্বাশুড়ি হচ্ছেন আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম। তাঁর স্ত্রী মিসেস ফোরকান ইবরাহিম একজন গৃহিণী এবং জেনারেল ইবরাহিমের জনসেবা ও দেশপ্রেমসুলভ কর্মকাণ্ডের একনিষ্ঠ প্রেরণাদাতা। জেনারেল ইবরাহিমের একমাত্র পুত্র সৈয়দ ফললুল করিম মুজাহিদ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে ছয় বছর লেখাপড়া করেছেন, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ করেছেন এবং মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিতি মিলিটারী ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলোজী (সংক্ষেপে এমআইএসটি) থেকে এমবিএ পাশ করেছেন। অতঃপর তিনি একটি বিদেশী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় চাকরিরত। মুজাহিদ বিবাহিত, তার স্ত্রীর নাম তানজিনা মেহের মুমু। মুমু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজিতে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। মুজাহিদ এবং মুমুর একমাত্র সন্তানের নাম ‘সৈয়দ মায়াজ মুহাম্মদ ইবরাহিম’ জেনারেল ইবরাহিম এর একমাত্র কন্যা শারমিন ফাতেমা ইন্না চট্টগ্রাম, যশোর ও ঢাকা সেনানিবাসের স্কুল ও কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেছেন। অতঃপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ এবং অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলোজী থেকে এমবিএ পাশ করেছেন। কিছুদিন ঢাকা মহানগরের গুলশানে অবস্থিত ‘স্যার জন উইলসন’ নামক ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করলেও এখন দুই জন শিশু সন্তানকে সময় দেওয়ার নিমিত্তে একজন গৃহিণী। ইন্নার স্বামী জনাব আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস এডমিনিসট্রেশন থেকে এমবি পাশ করেছেন। আরিফুল ইসলাম চৌধুরী গার্মেন্টস ও অন্যান্য বিষয়ে একজন শিল্প-উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আরিফ এবং ইন্নার দুইজন পুত্র সন্তান এর নাম হচ্ছে আরহাম ইসলাম চৌধুরী এবং আজফার ইসলাম চৌধুরী। মেজর জেনারেল ইবরাহিম এর পিতৃকূল এবং মাতৃকূলের ঊর্ধ্বতন ও সমসাময়িক বিস্তারিত পারিবারিক বিবরণ তার লেখা পুস্তক ‘মিশ্র কথন’-এ আছে। মিশ্র কথন কয়েকটি অধ্যায় পূর্ণভাবে এবং কয়েকটি অধ্যায় থেকে কিছু কিছু উদ্বৃতি এই ওয়েব সাইটেই আছে।

মেজর জেনারেল ইবরাহিম, রাজনীতি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি :

পত্র-পত্রিকায় কলাম লেখার কারণে, টেলিভিশনে বিভিন্ন টক-শো এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কারণে, জেনারেল ইবরাহিম সচেতন দেশবাসীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের নিকট সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। দেশ গঠন, জাতি গঠন, সরকার পরিচালনা, সমস্যাবলী বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায় ইত্যাদি প্রসঙ্গে জেনারেল ইবরাহিম এর মতামত বা বক্তব্য প্রচুর ব্যক্তিকে প্রভাবান্বিত করে। বাংলাদেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তাঁর সুচিন্তিত স্পষ্টবাদিতা মানুষকে আকর্ষণ করে। জেনারেল ইবরাহিম গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করতেই থাকেন যে, বাংলাদেশের রাজনীেিত গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। গুণগত পরিবর্তনের বিশদ ব্যাখ্যা ঠিক এই স্থলে না দিলেও, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ঘোষণা পত্রে বর্ণিত আছে। এক পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যাপক সংখ্যক ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যক্তি, রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিছুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিছু সংখ্যক সাবেক সৈনিক এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিছু সংখ্যক তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিগণ তাঁকে আন্তরিকভাবে প্রেরণা দেন রাজনীতির অঙ্গনে প্রত্যক্ষভাবে নামার জন্য। এইসকল সচেতন ব্যক্তির বক্তব্য অনেকটা এরকম ছিল: “আপনি জেনারেল ইবরাহিম সুন্দর কথা বলছেন এবং লিখছেন, আপনার কথাগুলো অবশ্যই গঠনমূলক; তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চান, এটা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে মুখে মুখে চাওয়া এবং লেখনীর মাধ্যমে চাওয়া সহজ; বাস্তবে করা কঠিন। আপনার সাহস থাকলে, আপনার মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে এবং আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস হন, তাহলে আপনি প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির অঙ্গনে আসুন এবং গঠনমূলক কাজ করুন।” সচেতন ব্যক্তিগণের প্রেরণায় জেনারেল ইবরাহিম উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তেমনই, তিনি নিজের বিবেকের তাড়নায়, দেশপ্রেমের তাড়নায়, জনগণের জন্য কিছু ভালো কাজ করার তাড়নায় একটি সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ঐ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই জেনারেল ইবরাহিম রাজনীতির অঙ্গনে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়েন। হাজার লোকের উপস্থিতিতে ৪ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অবস্থিত হোটেল ইম্পেরিয়াল এর কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির জন্ম ঘোষণা করেন। এই ওয়েব সাইটের অন্যত্র বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির উদ্বোধনী দিবসের ভাষণ, পার্টির ঘোষণা পত্র এবং পার্টির গঠনতন্ত্র দেওয়া আছে। ‘মিশ্র কথন’ নামক পুস্তকের শেষ তিনটি অধ্যায়ে রাজনীতিতে আগমন, দল গঠন এবং দলের বিকাশের পথে সুবিধা অসুবিধাগুলো বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
সিরাজুল আলম খান
একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
জমিরুদ্দিন সরকার
রাজু আহ্‌মেদ
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
হবীবুল্লাহ বাহার
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
হুমায়ুন কবির
আহসানউল্লাহ মাস্টার



 
  ::| Events
November 2018  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
        1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30  
 
::| Hot News
শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক
ব্যারিষ্টার সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহ্‌উদ্দিন
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
সিরাজুল আলম খান
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
হবীবুল্লাহ বাহার
আবদুল হামিদ খান ভাসানী

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]