Friday, 05.24.2019, 02:13am (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
ভাষা সৈনিক
 
বেগম, মমতাজ (১৯২৩-১৯৬৭)


 


রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্যাতিত, ত্যাগী ও নিগৃহীত নারী ভাষাসৈনিকের নাম মমতাজ বেগম। বাংলাকেরাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রামে তিনি তিলে তিলে নিজকে উৎসর্গ করেছেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে স্বামী সংসারহারিয়েছেন, চাকুরি হারিয়েছেন, গ্রেফতার বরণ করেছেন, নানারকম কুৎসা ও গঞ্জনা সহ্য করেছেন।  নিজের জীবন, সংসারবিপন্ন করেছেন কিন' ভাষা আন্দোলনের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেন নি।

ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী, সাহসী ও ত্যাগী নারী মমতাজ বেগম ১৯২৩ সালে ভারতের ভূপাল রাজ্যে জন্ম গ্রহণ করেন।তাঁর প্রকৃত নাম কল্যাণী রায় চৌধুরী, ডাক নাম মিনু। তিনি সাহিতযিক প্রমথনাথ বিশির বোনের মেয়ে। তাঁর পূর্বপুরম্নষরা ছিলরাজশাহীর জমিদার।

বাবা রায় বাহাদুর মহিম চন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন জেলা জজ পরে তিনি কলকাতা হাইকোটের বিচারপতি নিযুক্ত হন। মাতামাখন মতি দেবী ছিলেন স্কুল শিড়্গিকা এবং শিড়্গিত সম্ভ্রানত্ম অথচ রড়্গণশীল পরিবারে জন্ম নেয়া প্রগতিশীল চিনত্মাচেতনার ধারক কল্যাণী রায় চৌধুরী রড়্গণশীলতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিভাগের ছাত্র গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর আব্দুল মান্নাফকে। ধর্মানত্মরিত হয়ে কল্যাণী রায় চৌধুরী নাম ধারণ করেনমমতাজ বেগম।

১৯৪৩ সালে কলকাতা থেকে প্রাইভেট পরীড়্গা দিয়ে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪২ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকেবিএ পাশ করেন।

১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএড এবং ১৯৬৪ সালে এমএড ডিগ্রি লাভ করেন। রড়্গণশীল পরিবারে জন্মনেয়া একমাত্র সনত্মান কল্যাণী রায়ের শিড়্গা জীবনও স্বাভাবিক ছিল না।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় এই মহিয়সী নারী নারায়ণগঞ্জ মর্গান হাই স্কুলের প্রধান শিড়্গক হিসেবে কর্মরতছিলেন। একুশে ফেব্রম্নয়ারি ঢাকা ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে রহমত উলস্নাহ মুসলিম ইনষ্টিটিউট ময়দানে এক সমাবেশ অনুষ্টিতহয়। ময়দানের কাছেই মর্গান স্কুল। জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পদকআবুল হাশিম। তাঁর কাছে থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে পারেন যে, ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলি হয়েছে। মূহূর্তেই বিশালজনসভা বিড়্গুব্ধ হয়ে ওঠে। সভা থেকে যে বিরাট মিছিল শহর প্রদড়্গিণ করে, তাতে মমতাজ বেগম যোগদেন। তখন ছিলরড়্গণশীলতার যুগ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে পর্দা ঘেরা ঘোড়াগাড়ি ও রিকশায় মহিলারা চলাফেরা করতেন। এই রড়্গণশীলতারমধ্যেও মমতাজ বেগম শহরের মহিলাদের বিশেষ করে ছাত্রীদের আন্দোলনে শরীক করাতে সড়্গম হয়েছিলেন। এতেনারায়ণগঞ্জ মহকুমা প্রশাসন তাঁর ওপর ড়্গিপ্ত হয়ে যায়। তখন মহকুমার পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) ছিলেন দেলোয়ারসাহেব। মমতাজ বেগমের বিরম্নদ্ধে এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

২৯ ফেব্রম্নয়ারি সকাল নয়টা কি সাড়ে নয়টার মমতাজ বেগমকে রাসত্মায় গ্রেফতার করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জ কোর্টে নিয়েযাওয়া হয়। কোর্টের তাঁর জামিনের আাবেদন নামঞ্জুরও হয়। এদিকে তাঁর গ্রেফতারের খবরে উত্তেজিত জনতা কোর্ট ভবনঘেরাও করে ফেলে। সেখান থেকে তাকে ভ্যানে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় কিন' চাষাঢ়ায় এক জনসমুদ্রগতিরোধ করে দাঁড়ায়। পুলিশ জনতার ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ ব্যর্থ হয়। ঢাকা থেকে আসে আরো পুলিশ এবংইপিআর। জনতার প্রতিরোধে এসে যোগদেন ঢাকা-নারাণগঞ্জ সড়কের দু’পাশের গ্রামবাসীরাও। তারা চাষাঢ়া থেকে পাগলাপর্যনত্ম রাসত্মার দু’পাশের ১৬০টি বটগাছ কেটে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। সেদিন পুলিশ নারায়ণগঞ্জে জুলুমের এক দৃষ্টানত্মস'াপন করে। পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য খান সাহেব ওসমান আলীর বাসভবনও তছনছ হয়। শত শত ব্যক্তি আহতহয়। গ্রেফতার হয় শতাধিক। রাত আটটা পর্যনত্ম জনতা-পুলিশ তীব্র সংঘর্ষ চলে। রাত এগারটার দিকে জনতার প্রতিরোধদুর্বল হয়ে পড়লে পুলিশ মমতাজ বেগমকে একটি ট্রাকে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই ট্রাকে গ্রেফতারকৃত শফি হোসেনখানও ছিলেন এবং মর্গান স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীও ছিলেন।

মুসলীম লীগ সরকার অবশ্য মমতাজ বেগমকে কারাগার থেকে বন্ড সইয়ের শর্তে মুক্তি দিতে চেয়েছিল। এই তেজস্বিনীনারী সে প্রসত্মাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মুচলেকা দিয়ে মুক্তি ক্রয়ের বিরম্নদ্ধে অবিচল থেকেএক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এই অস্বীকৃতির জন্য মমতাজ বেগমকে তাঁর সরকারি চাকুরি হারাতে হয়েছে। স্বামী তাকেতালাক দেন। প্রায় দেড় বছর পর কারাগার থেকে মমতাজ বেগম মুক্তি পান।

মমতাজ বেগমের গ্রেফতার প্রসঙ্গে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় নিম্মোক্ত খবর প্রকাশিত হয়, সকাল বেলা স'ানীয় পুলিশনারায়ণগঞ্জ মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিড়্গয়িত্রী মিসেস মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করে মহকুমা হাকিমেরআদালতে হাজির করে। সংবাদ পেয়ে  একদল ছাত্র ও নাগরিক আদালতের সামনে হাজির হয়, বিনাশর্তে তাঁর মুক্তি দাবিকরে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ইত্যাদি ধ্বনি করতে থাকে। মহকুমা হাকিম ইমতিয়াজী তখন বাহিরে এসে বলেন, মমতাজবেগমকে স্কুলের তহবিল তছরম্নপের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সাথে তাঁর গ্রেফতারে কোন সম্পর্কনেই। কিন' জনতা তা বিশ্বাস করে না, বলতে থাকে, মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রবীণ কর্মীবলেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সুতরাং তাঁকে বিনাশর্তে মুক্তি না দিলে তারা আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাবে না। পুলিশতখন লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

বিকালে পুলিশ মোটরযোগে মমতাজ বেগমকে নিয়ে ঢাকা রওনা হলে চাষাড়া স্টেশনের কাছে জনাতা বাধা দেয়। তাতেপুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুশিল লাঠিচার্জ করে। ফলে উভয় পড়্গে ৪৫ জন আহত হয়।

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মমতাজ বেগম নারী জাগরণের একটি নব অধ্যায়ের সুচনা করেন। মমতাজ বেগমের সংগ্রামেরমাধ্যমে অত্র এলাকার নারীর অবরম্নদ্ধ সমাজের বাইরে প্রগতির পথে বেরিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৫২ সালের পরতিনি আবারও শিড়্গকতা পেশায় নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষদিন পর্যনত্ম এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৫২ সালের মে মাসের চতুর্থ সপ্তাহের প্রথম দিকে মমতাজ বেগমকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে মুক্তিলাভেরপরপরই তিনি জনসমড়্গে আসতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জ পৌর এলাকায় আরও কিছুদিন তিনি অনত্মরীণ ছিলেন।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের কারণে প্রথম এবং একমাত্র চাকুরিচ্যুত মহিলা হলেন মমতাজ বেগম। একুশের হত্যাকান্ডের পরপ্রথম গ্রেফতারকৃত মহিলা মমতাজ বেগম। মমতাজ বেগমই একমাত্র মহিলা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণেযাকে তাঁর স্বামী তালাক দেয়। ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহণের কারণে তাঁর সুন্দর সাজানো সংসার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়।জীবনের নেমে আসে চরম দূর্ভোগ অনিশ্চিয়তা।

তা’ সত্ত্বেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ, অকুতোভয়, আপোষহীন এই ত্যাগী নারী আন্দোলনের মাঠথেকে এক বিন্দু সরে দাঁড়াননি, নিজকে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। ভাষা আন্দোলনের কিংবদনত্মী মমতাজ বেগম১৯৬৭ সালের ৩০ মার্চ মৃতুবরণ করেন। আজও আমরা তাঁকে যথাযথ সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছি। একুশে পদকসহঅন্যান্য রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করে তাঁর প্রতি উপযুক্ত সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top




 
  ::| Events
May 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30 31  
 
::| Hot News
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
সালাম, শহীদ আব্দুস (১৯২৫-১৯৫২)
রফিক, শহীদ মোহাম্মদ (১৯৩২-১৯৫২)
রহমান, শহীদ সফিউর (১৯১৮-১৯৫২)
বরকত, শহীদ আবুল  (১৯২৭-১৯৫২)
জব্বার, শহীদ আব্দুল (১৯১৯-১৯৫২)
অহিউলস্নাহ, শহীদ (জন্ম : অজ্ঞাত, মৃতু : ১৯৫২)
কাসেম, আবুল প্রিন্সিপাল (১৯২০-১৯৯১)
বাচ্চু, রওশন আরা (১৯৩২)
ইসলাম, অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল (১৯২৭)

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]