গুণীজন ডটকম Life story of Bangladeshi poets writers & famous persons

ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন

Tuesday, 10.07.2014, 01:46am (GMT6)

ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপর্জেলার ধুবালীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতার নাম আবদুল জলিল ও মাতার নাম আমেনা খাতুন। তিনি ১৯৪৩ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।


১৯৪৮ সালে পাবনায় এবং পরবর্তীকালে ১৯৫১ সাল থেকে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৪৮ সালের পর ভাষা আন্দোলনে ভাটা দেখা দেয়াতে আন্দোলন চাঙ্গা করতে জনাব মতিনের উদ্যোগে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় এবং তিনি আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। এইবিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বায়ান্নর আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২১ ফেব্রম্নয়ারি ১৪৪ ধারাভঙ্গের জন্য যে ক’জনের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বদানেরদায়ে তাঁকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়।

আব্দুল মতিন বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বভাবতই তিনি আন্দোলনকে সংগঠতি করারজন্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মতৎপর ছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদের ২০শে ফেব্রম্নয়ারির নবাবপুরেরমিটিং-এ যে চারজন ২১শে ফেব্রম্নয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পড়্গে ভোট দেন তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৪৮ সালেকার্জন হলের কনভোকেশন সভায় আব্দুল মতিন অন্যদের সঙ্গে জিন্নাহ সাহেবের রাষ্ট্রভাষা উর্দুর স্বপড়্গে বক্তব্যের পর ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ করেছিলেন। ১৯৫২ সালে মার্চের প্রথম দিকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কারাবরণকরেন। আব্দুল মতিন বায়ান্নর মার্চে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ একবছর পর ১৯৫৩ সালের মার্চে মুক্তি লাভ করেন।

২ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে ২য় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করলে তৎকালীন মুসলিম ছাত্রলীগের পাবনা শাখার নেতা হিসেবেআব্দুল মতিন ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং ওই সময় পাবনার আঞ্চলিক আন্দোলনে তিনি গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করেন।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের (১১ মার্চ ১৯২৫১) পর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য তিনিনানাভাবে তৎপর হন। তাঁরই উদ্যোগে ১৯৫১ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা পতাকা দিবস পালিত হয়।১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নাজিমুদ্দীন কর্তৃক ঢাকার পল্টনে এক জনসভায় উর্দুকে পাকিসত্মানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষাঘোষণা দেয়া হলে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আব্দুল মতিন।

নাজিমুদ্দীনের একতরফা ঘোষণার প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২ তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামপরিষদের এক সভায় ২১ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৫২ তারিখে সমগ্র তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানে হরতাল, সভা ও বিড়্গোভ মিছিলেরসিদ্ধানত্ম হয়। আব্দুল মতিন উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরবর্তী দিন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীরসভাপতিত্বে ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ তারিখে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সময় ২১ ফেব্রম্নয়ারির উক্ত কর্মসূচিকেসমর্থন করা হয় এবং আবদুল মতিনকে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের সদস্যরূপে গ্রহণ করা হয়। জনাব আবদুল মতিনবলেন, যতদিন না বাংলা ভাষার ন্যায়সঙ্গত দাবিকে প্রদেশ ও কেন্দ্রে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে, ততদিন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তথা সমগ্র ছাত্র সমাজ ড়্গানত্ম হচ্ছে না।

১৯৫২ সালের ২৭ মার্চ পল্টনে খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তৃতায় উর্দুকে পাকিসত্মানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা করাহয়। এরই প্রতিবাদে ২১ ফেব্রম্নয়ারির জরতাল কর্মসূচির ডাক তিনিই দিয়েছিলেন এবং সর্বদলয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদতা সমর্থন করেছিল। বস'ত অমর ‘একুশ’ সৃষ্টির পথ এভাবেই অগ্রসর হয়েছিল। অমর একুশের আন্দোলনে আবদুলমতিনের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।