Monday, 03.25.2019, 08:57pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
ভাষা সৈনিক
 
চৌধুরী, সাবির আহমদ (১৯২৪)



সাবির আহমেদ চৌধুরী একজন মানবতাবাদী কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যতালিকার অনত্মর্ভুক্ত।শানিত্ম ও কল্যাণের বন্ধনে তাঁর লেখনী নিয়ত সোচ্চার। সব ধর্মের প্রতি তাঁর অকুন্ঠ শ্রদ্ধাবোধ। তাঁর জীবন, কর্ম ও সাহিত্যসৃষ্টির উপর দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কয়েকজন গবেষক পিএইচডি এবং এমফিল গবেষণায় রতআছেন। কবি সাবিরের প্রকাশিত গ্রনে'র সংখ্যা ১২। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, সংগঠক, সমাজসেবক, অর্ধশত সামাজিক ওসাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। সর্বোপরি একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব।

আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সাবির আহমেদের আরেকটি বড় পরিচয় হলো তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন গর্বিত সৈনিক।বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যেরও অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামসহ এ দেশেরপ্রতিটি গণতান্ত্রিক  আন্দোননে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ভাষাসংগ্রামী সাবির আহমেদ ১৩৩১ বঙ্গাব্দের ৩১ আষাঢ়১৯২৪ সালের ১৫ জুলাই) নরসিংদী জেলার অনত্মর্গত মনোহরদী (বর্তমানে বেলাব) থানার হাড়িসাঙ্গান গ্রামে জন্মগ্রহণকরেন। (

পিতা হানিফ মোহাম্মদ এবং মাতা আছিয়া খাতুন। তিনি ১৯৪৫ সালে হাতিরদিয়া সাদত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকএবং ১৯৪৬ সালে আহসানউলস্নাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ও কলেজ থেকে সাব-অভারসিয়ার ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালেউক্ত কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপেস্নামা কোর্সে ভর্তি হন।

সে সময় তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিটি হোষ্টেলে ১ নং রম্নমে থাকতেন। তাঁর রম্নমমেট ছিলেন মনোহরদীর মহসিনভূইয়া। মহসিন সাহেবের এক সময়ের স্কুল সহপাঠি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও পরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমপ্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতার অন্যতম স'পতি তাজউদ্দিন আহমদ। এইসূত্রে তাজউদ্দীন আহমদ প্রায়ই সাবির আহমদের রম্নমেআসতেন। তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গের সাথে বাংলা ভাষা নিয়েও আলোচনা করতেন। উভয়ে পরস্পরকে ‘কান্ট্রিম্যান’ বলে সম্মোধন করতেন।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের একেবারে শুরম্ন থেকেই সাবির আহমেদ চৌধুরী এই আন্দোলনের সাথে সংশিস্নষ্ট হন। ১৯৪৭ সালের১ সেপ্টেম্বর ১৯ আজিমপুরে অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত হয়  তমদ্দুন মজলিস। সাবির আহমেদ তমদ্দুনমজলিসের সংস্পর্শে এসে ভাষা আন্দোলনে শরিক হন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘আমি প্রায় নিয়মিত আজিমপুরস' তমদ্দুনমজলিসে আসা যাওয়া করতাম, ফলে তাদের সাথেও আমার একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে’। 

১৯৪৮ সালে সাবির আহমেদ আহসানউলস্নাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। সে বৎসরের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলীজিন্নাহ ঢাকা আসেন এবং ২১ মার্চ তখনকার রেসকোর্স ময়দানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ইঞ্জিনিয়ারিংস্কুল ও কলেজের ছাত্রনেতা নুরম্নল হুদাসহ সেদিন তিনি উক্ত সভায় উপসি'ত থেকে জিন্নাহর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন।উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনুষ্ঠিত সভা ও সমাবেশে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

১৯৪৮ সালের শেষের দিকে সাবির আহমেদ সরকারি চাকুরিতে যোগাদান করা সত্ত্বেও ভাষা আন্দোলন কর্মীদের সাথেনিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৫০ সালে তিনি সরকারি চাকুরিনিয়ে সিলেটের সুনামগঞ্জে চলে আসেন। সেখানে কবি প্রজেশ কুমার রায়ের সম্পাদনায় ‘সাদেক’ নামে একটি প্রত্রিকাপ্রকাশিত হত। এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে সাবির আহমেদের সরকারি বাসায় প্রায়ই সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হত এবং বাংলাকে  রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে আলোচনা হত। এ সকল সভায় দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক শাহেদ আলী, মকবুলহোসেন চৌধুরী, কবি প্রজেশ কুমার রায় এবং শ্রীবরম্নণ রায়সহ অনেকেই উপসি'ত থাকতেন। সাবির আহমেদ ভাষাআন্দোলনের সমর্থনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সভা সমাবেশে বাংলা ভাষার পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ অধ্যায়ে সাবির আহমেদ বৃহত্তর সিলেটে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন।তবে একুশে ফেব্রম্নয়ারির রক্তাক্ত দিন তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় অবস'ান করেন। ছাত্র হত্যার খবর শুনে সুনামগঞ্জেরতৎকালীন মহকুমা হাকিম কাজী মকিমউদ্দীন আহমেদকে সাথে নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাকে আসেন এবংভাষাশহীদদের রক্তের ছাপ দেখতে পান। ২২ ও ২৩ ফেব্রম্নয়ারি তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেন। ২৪ফেব্রম্নয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের দ্বারা নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার প্রত্যক্ষ করেন এবং শত শত জনতার সাথেশ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

২৬ ফেব্রম্নয়ারি পাকিসত্মান আর্মি ও ইপিআর সদস্যদের দ্বারা প্রথম শহীদ মিনার ভাঙ্গার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন সাবিরআহমেদ চৌধুরী। এ সময় শহীদ মিনারের কাছে যেতে চাইলে আর্মিরা তাকে বাঁধা দেন। কিন' সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়েতিনি পুরো ঘটনার সময় সেখানে উপসি'ত ছিলেন। মোটা রশি টানিয়ে শহীদ মিনার ভাঙ্গার নির্মম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে তিনিখুবই মর্মাহত হন।

প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলার পর ছাত্র জনতার একটি ছোট মিছিল বের হয়। এতে অন্যান্যদের সাথে তিনিও অংশগ্রহণকরেন। স্মৃতিসত্মম্ভ ভাঙ্গার পর এটাই  ছিল প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও একমাত্র ভাষাপ্রীতিরকারণে সরকারবিরোধী উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করে সেদিন তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন আমাদের ভাষাআন্দোলন ও সাবির আহমেদ-এর জীবনে এটা এক অনন্য ও স্মরণীয় ইতিহাস হয়ে থাকবে। ২৭ ফেব্রম্নয়ারি তিনি নিজকর্মস'ল সুনামগঞ্জে ফিরে যান এবং সেখানকার উত্তপ্ত পরিসি'তিতেও ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের সাথেসার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।  ভাষা আন্দোলনের পরেও তিনি বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশে বহু কাজ করেছেনএবং আজও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রম্নয়ারি মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের নিয়ে তিনি প্রচুরকবিতা ও গান রচনা করেছেন।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ভাষা আন্দোলনেরপর একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক হিসেবেওতাঁর অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে।  ১৯৬৬ সালে সাবির আহমেদ চৌধুরীর পাকিসত্মানের মাটিতে সর্ব পাকিসত্মানী নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের এক সভায় বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেন। পশ্চিম পাকিসত্মানের করাচিরইন্টারকন্টিন্যান্টল হোটেলে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানের পক্ষে থেকে র্নিমাতা ফয়েজ আহমদেরনেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানের কার্য বিবরণীতে শুধু র্ঊদু এবং ইংরেজিভাষাতে বক্তৃতা দেয়ার সিদ্ধানত্ম ছিল। কিন' সাবির আহমেদ বাংলা ভাষাকে যুক্ত করার দাবি উত্থাপন করেন। তাঁর এ বক্তব্যঅগ্রাহ্য হওয়ায় তিনি প্রতিবাদে সভাস'ল পরিত্যাগ করেন। সেখানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীউপসি'ত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরম্ন হলে অংশগ্রহণকারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস'ানের প্রতিনিধিরাও সভা বর্জনের হুমকি প্রদানকরে। ফলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধানত্ম পরিবর্তন করে সাবির আহমেদকে বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন। উক্তসভায় তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে বাংলা ভাষায় বক্তব্য রেখেছিলেন। সাথে সাথে আয়োজকবৃন্দউক্ত বক্তব্য উর্দু ভাষায় দোভাষীর মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস'া করেন। পরের দিন পত্রপত্রিকায় সাবির আহমেদের বক্তব্যফলাও করে ও গুরম্নত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছিল। উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনাটি ছিল ভাষা আন্দোলনের সফলতার পর্বের একবিরাট বিজয়। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সাবির আহমেদের নামটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
মাহবুব, কাজী গোলাম (১৯২৭-২০০৬)
বেগম, মমতাজ (১৯২৩-১৯৬৭)



 
  ::| Events
March 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
          1 2
3 4 5 6 7 8 9
10 11 12 13 14 15 16
17 18 19 20 21 22 23
24 25 26 27 28 29 30
31            
 
::| Hot News
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
সালাম, শহীদ আব্দুস (১৯২৫-১৯৫২)
রফিক, শহীদ মোহাম্মদ (১৯৩২-১৯৫২)
রহমান, শহীদ সফিউর (১৯১৮-১৯৫২)
বরকত, শহীদ আবুল  (১৯২৭-১৯৫২)
জব্বার, শহীদ আব্দুল (১৯১৯-১৯৫২)
অহিউলস্নাহ, শহীদ (জন্ম : অজ্ঞাত, মৃতু : ১৯৫২)
কাসেম, আবুল প্রিন্সিপাল (১৯২০-১৯৯১)
বাচ্চু, রওশন আরা (১৯৩২)
ইসলাম, অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল (১৯২৭)

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]