Tuesday, 03.19.2019, 02:29am (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
ভাষা সৈনিক
 
কাসেম, আবুল প্রিন্সিপাল (১৯২০-১৯৯১)



রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১৯২০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলারছেবন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪১ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৪৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি পাশ করেন।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক ও অধ্যাপক হিসেবে ১৯৪৬-৫৩ সাল পর্যনত্ম শিড়্গকতা করেন। ১৯৫৪ সালেযুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা কলেজ। ১৯৬২-৮১পর্যনত্ম উক্ত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ২৯ নং আজিমপুরে ‘তমদ্দুন মজলিস’ প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা হলেন আবুল কাসেম। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক। আবুলকাসেমের উনিশ নম্বরের আজিমপুরের বাড়িটি ছিল ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার। পাকিসত্মান সৃষ্টির এক মাসের মাথায়১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রকাশিত প্রথম পুসিত্মকা ‘পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা নাউর্দু’ আবুল কাসেমের উদ্যোগে ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল।

উক্ত পুসিত্মকার প্রসত্মাব নিবন্ধে তিনি সুস্পষ্টভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। উক্ত পুসিত্মকা সম্পর্কেভাষাসংগ্রামী এম আর আখতার মুকুল বলেন, ‘অধ্যাপক আবুল কাসেমের সম্পাদনায় আলোচ্য পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষাবাংলা না উর্দু’, পুসিত্মকাকেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করতেই হয়।’ ড. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন ‘বলাচলে উপরোক্ত পুসিত্মকা প্রকাশের মাধ্যমেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন প্রতিষ্ঠাতা সূচিত হয়।’

১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর উদ্যোগে ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষা সম্পর্কে ফজলুল হক হলে এক সাহিত্যসভারআয়োজন করা হয়। একই সালের ১৭ নভেম্বর দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের স্বাড়্গর সম্বলিতবাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রদত্ত স্মারকলিপির তিনিই ছিলেন মূল উদ্যোক্তা।রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলায়। তিনি উক্তসভায় সভাপতিত্ব করেন। সভাশেষে তাঁরই নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রভাষার দাবিতে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। ওই সময়বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সরকারের সাথে দেনদরবার, রাজপথের আন্দোলন এবং ভাষা আন্দোলনের স্রোতধারারসাথে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁরইউদ্যোগে গঠিত হয় প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ভাষাসংগ্রামী, একাত্তরে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কর্তৃক গণপরিষদেবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রসত্মাব প্রত্যাখাত হলে এর প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৪৮ তারিখে ঢাকায় এক ছাত্রসভাঅনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম। ২ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে সংগ্রাম পরিষদ সম্প্রসারিতকরে গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৫ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে রাষ্ট্রভাষা চুক্তি স্বাড়্গরিত হয়। সম্প্রসারিতসংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং চুক্তি স্বাড়্গর পর্বে তিনি মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১১ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হরতালে পিকেটিং করতে যেয়ে তিনি পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। হরতালকে সফলকরতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ১ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে বিবৃতি প্রদান করেন। ৩ মার্চ তারিখে আবারও পত্রিকায় বিবৃতিপ্রদান করেন এবং ১০ মার্চ ফজলুল হক হলে তাঁরই আহ্বানে ও সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে তাঁরই উদ্যোগ এবং নেতৃত্বে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সৈনিকপত্রিকা। ১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে তিনি গুরম্নত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। একুশেররক্তাক্ত ঘটনার পর তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করা হয়। ২৩ ফেব্রম্নয়ারি, ১৯৫২ তারিখে গভীর রাতে পুলিশ১৯নং আজিমপুর ঘেরাও করলে তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছুদিনের জন্য আত্মগোপন অবস'ায় থাকেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির পর প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ভাষা আন্দোলনেরচেতনাকে বাসত্মবে রূপ দিতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একে একে গড়ে তোলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিকও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং একুশ দফা প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ‘একুশ দফার রূপায়ন’ নামক গ্রন'টিলিখে একুশ দফা সম্পর্কে মানুষের ভ্রানিত্ম নিরসনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিতহয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ও মুসলিম লীগের ভরাডুবির মধ্য দিয়ে সকল প্রচেষ্টার সার্থকতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনিনির্বাচনে জয়লাভ করে আইন সভার সদস্য হন এবং ভাষা আন্দোলনের সফলতার পর্বকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্যধারাবাহিক কার্যক্রম শুরম্ন করেন।

বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রথম বাংলার মাধ্যমে উচ্চশিড়্গিত লোক সৃষ্টির যুগানত্মকারী পদড়্গেপগ্রহণ করে তিনি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ অধ্যাপনাকালে এবং পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলনসহঅন্যান্য পদড়্গেপ নিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারলেন যে, বাংলা মাধ্যমে উচ্চশিড়্গিত লোক সৃষ্টি ছাড়া বাংলাকে সর্বসত্মরে প্রয়োগসম্ভব নয়। তাই তিনি দূরদর্শী পরিকল্পনায় ১৯৬২ সালে বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসরচনার ড়্গেত্রেও এই গ্রন' পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে। তিনি উচ্চশিড়্গা ড়্গেত্রে বাংলা পাঠ্যপুসত্মক রচনার পথিকৃত এবংবিজ্ঞান বিষয়ে বাংলা পরিভাষা সৃষ্টির প্রথম সফল রূপকার।

বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পর বাংলার মাধ্যমে উচ্চ শিড়্গাদানের ব্যবস'া হলেও, শিড়্গাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিতপরীড়্গার প্রশ্নপত্র তৈরি হত ইংরেজিতে। তিনি প্রশ্ন প্রস'তকারী কর্তৃপড়্গের নিকট বহু লেখালেখি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগসহইংরেজির সাথে বাংলা প্রশ্নপত্র সংযোজনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এরই বদৌলতে প্রশ্ন প্রস'তকারী কর্তৃপড়্গ ইংরেজিরসাথে বাংলা প্রশ্নপত্র সংযোজনের পদড়্গেপ গ্রহণ করে। এভাবে তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যনত্ম বাংলা ভাষার অধিকারপ্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ১৯৯১ সালের ১১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
বাচ্চু, রওশন আরা (১৯৩২)
ইসলাম, অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল (১৯২৭)
চৌধুরী, সাবির আহমদ (১৯২৪)
মাহবুব, কাজী গোলাম (১৯২৭-২০০৬)
বেগম, মমতাজ (১৯২৩-১৯৬৭)



 
  ::| Events
March 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
          1 2
3 4 5 6 7 8 9
10 11 12 13 14 15 16
17 18 19 20 21 22 23
24 25 26 27 28 29 30
31            
 
::| Hot News
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
সালাম, শহীদ আব্দুস (১৯২৫-১৯৫২)
রফিক, শহীদ মোহাম্মদ (১৯৩২-১৯৫২)
রহমান, শহীদ সফিউর (১৯১৮-১৯৫২)
বরকত, শহীদ আবুল  (১৯২৭-১৯৫২)
জব্বার, শহীদ আব্দুল (১৯১৯-১৯৫২)
অহিউলস্নাহ, শহীদ (জন্ম : অজ্ঞাত, মৃতু : ১৯৫২)
কাসেম, আবুল প্রিন্সিপাল (১৯২০-১৯৯১)
বাচ্চু, রওশন আরা (১৯৩২)
ইসলাম, অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল (১৯২৭)

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]