Sunday, 11.18.2018, 03:02pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
চিত্রশিল্পি
 

চিত্রশিল্পি এস এম সুলতান




 

 বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান চিত্রশিল্পি এস এম সুলতান। সুলতানের ডাকনাম লাল মিয়া। এস এম সুলতান বৃহত্তর যশোর জেলাবর্তমান নড়াইল জেলার সদর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে ভূমিষ্ঠ হন ১৯২৩ সালে ১০ আগস্ট। তার পিতার নাম মেছের ধাউড়িয়া ও মায়ের নামবড়-জান। সুলতানের পিতা ছিলেন দরিদ্র মিস্ত্রি কিংবা ঘরামি বা শনের ঘরের কারিগর। সুলতান বাল্যে রূপগঞ্জের মিশন স্কুলে পড়াশুনা শুরম্নকরেন। এক পর্যায়ে তিনি নড়াইলের খেয়াঘাটের পূর্ব পাশের নাকশির আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেন। মিশন স্কুলে পাঠকালে ড্রইং শিড়্গক কৃষ্ণবা কেষ্ট ভট্রাচার্যের কাছে অংকনে হাতেখড়ি গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে নাকশি আলিয়া মাদ্রাসার শিড়্গক রঙ্গলাল দাস(ধর্মানত্মরিত হয়ে রবিউলইসলাম)-এর কাছে অংকন শিড়্গা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে সুলতান ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির।

সুলতানের মাতা বড়ৃজান ও সুলতান ও তার অপন সহোদরাকে রেখে হঠাত মৃত্যুমুখে পতিত হন। এরপর সুলতানের জীবনে নেমে আসে শোকেরঅমানিশা। পিতা মেছের ধাউড়িয়া সংসারের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই পড়্গে সুলতানের দুই ভাই ও এক বোন জন্মগ্রহণ করে। সুলতানেরশ্রমজীবী পিতার সংসার ছিলো খুবই দারিদ্রপিড়িত। প্রায়ই বিমাতার সঙ্গে সুলতানের ছোটখাটো বিবাদ বিসম্বাদ লেগেই থাকতো। এই বিবাদেরকারণে সুলতান একদিন নাকশিতে অধ্যয়ন কালে গৃহত্যাগী হন। এবং তিনি পথেবিপথে ঘুরে মহানগরী কলকাতায় হাজির হন। এরপর শুরম্ন হয়সুলতানের কঠিনসাধনার জীবন। প্রথমে তিনি ঠাঁই পেয়েছিলেন কলকাতার ভবানীপুরে নড়াইল জমিদারদের বাড়িতে। পরে তিনি উপমহাদেশেরবিখ্যাত রাজনীতিক ও সংস্কৃতিবান সোহরাওয়ার্দি পরিবারে স'ান পান। কলকাতার থিয়েটার রোডের সোহরাওয়ার্দি পরিবারে অবস'ান করেসুলতান কলকাতা আর্ট স্কুলে অধ্যয়ন শুরম্ন করেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন,চলচিত্রকার সত্যজিত রায় প্রমুখ ছিলেন তার সহপাঠি।

বাউন্ডুলে সুলতান একদিন মু্ক্তবিশ্বের টানে পড়াশুনা বাদ দিয়েই স্কুলের পাঠ ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়েন। তিনি উত্তর প্রদেশ,হিমাচল,কাশ্মিরসহবিভিন্ন স'ানে সফর করেন। কোথাও কোথাও করেন ছবির একক প্রদর্শনী,কোথাও ছবি অংকন করে বিক্রির পয়সা দিয়ে হোটেল খরচ চালাতেন।হিমালয় পাদদেশে তিনি দীর্ঘ সময় অবস'ান করেন। সেখানে নানা সাবজেক্টের ওপর ছবি অংকন করেন সুলতান। বিশেষ করে কাশ্মিরেরপ্রকৃতিক দৃশ্য তাকে গভীর ভাবে টেনেছিলো। নিবিড় একাকিত্বে ও নানা ভাষাভাষী মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি জানবার মাধ্যমে সুলতান সত্যিইপ্রকৃতির এক উদাসী শিড়্গাথী হয়ে উঠলেন। এই ভাবে চিরকুমার সুলতান বিশ্বপাঠশালার এক নিবিষ্ঠ কথক বা শিল্পি হয়ে উঠলেন। ১৯৪৭ সালেরদেশ বিভাগের সময়ে সুলতান অবস'ান করছিলেন কাশ্মিরে। প্রচন্ড সামপ্রদায়িক হানাহানির মধ্যে তিনি কোনো ভাবে পাকিসত্মনের লাহোরেঅবস'ান গ্রহণ করতেন। তিনি থাকতেন লাহোরের আনারকলিতে। পরে ডেরা গাড়েন উপমহাদেশের বিশিষ্টগুণীদের সঙ্গে করাচিতে। করাচি তখনপাকিসত্মানের রাজধানী। ওসত্মাদ বড়ে গোলাম আলি খাঁ,কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ,মহাকবি ইকবালের পুত্র জাভেদ ইকবাল,এই ডেরায় থাকতেনকিংবা আড্ডা দিতেন।একসময়ে সেখানে অবস'ান নিয়েছিলেন খান আতা,ফতেহ লোহানি প্রমুখ। কিছু দিনের জন্য অবস'ান নিয়েছিলেনপলিস্নকবি জসিমউদ্দীনও। সুলতান করাচি থেকে পাকিসত্মানের শিল্পসাহিত্য বিষয়ক প্রতিনিধি হিসেবে যু্ক্তরাষ্ট্র গমন করে ছিলেন। সেখানকারগুণীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি তাদের সঙ্গে থেকে পশ্চিমা থাচের শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ চিনত্মাভাবনার অবকাশ পান। যুক্তরাষ্ট্রেরবড়ো বড়ো শহরে সুলতানের বেশ কয়েকটি একক একক চিত্রপ্রদর্শনী হয়। যু্ক্তরাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির পত্রিকায় সুলতানের কাজের আলোচনাসমালোচনা হয়। এই ভাবে সে সময়ে সুলতান বিশ্বের দরবারে এক ব্যতিক্রমী শিল্পি হিসেবে পরিচিত হন।  ‌ ‌ ‌

সুলতান অনেক সুনাম ও কৃতিত্বে পরিচয় দিয়ে গত শতাব্দীর পঞ্চাশ দশকের প্রথম দিকে সে কালের পুর্ব পাকিসত্মান অর্থাত বাংলাদেশে ফিরেআসেন। বিমান বন্দর থেকে নেমে সুলতান ঢাকায় অবস'ান গ্রহণ করেন। কিন' তার কলকাতা জীবনের বন্ধুদের অত্যাচারে তিনি ঢাকা ত্যাগকরতে বাধ্য হন। তবে এই সময়ে পলিস্নকবি জসীমউদ্দীন তাঁকে বিশেষ সমাদর করেছেন। ঢাকা থেকে সুলতান যশোরের চাঁচড়া রাজবাড়ির ভাঙামন্দিরে অবস'ান করেন। এখানে তিনি একটি চিত্রাংকন স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। সুলতান এরপর নড়াইলের জমিদার বাড়িতে অবস'ান গ্রহণকরেন। এরপর শুরম্ন হয়ে যায় তার গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে থাকা ও অবস'ানের এক অখন্ডসময়। সুলতান নানা কারণে পৈত্রিক ভিটের অবস'ানত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর তিনি বৃহত্তর যশোর তথা নড়াইলের বিভিন্ন গ্রামে অবস'ান করেন। ছবি অংকনটা ছিলো একানত্ম নিজের বিষয়। তবে তা খেয়ালেরঝোকেই তিনি করতেন। এই সময়ে সুলতান বোহেমিয়ান জীবনে অভ্যসত্ম হয়ে যান। তিনি লোকসঙ্গীত,লোকনৃত্যের প্রতি আকর্ষণ বোধকরেন,নিজেও তাতে অংশ নিতেন। আবাহমান মানুষের লোকজীবন,লোকসংস্কৃতি,লোকাচার লোকদর্শন সুলতানের জীবনের ছবির বিষয় হয়ে ওঠে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে সুলতান নানা ভাবে বিপর্যসত্ম হন। তিনি এক পর্যায়ে শহর ছেড়ে গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। মুক্তি যুদ্ধের সক্রিয়সমর্থক হয়ে কাজ করেছেন গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সুলতান। পরবর্তীকালে তার ব্রাশে উঠে এসেছে সেই অভিজ্ঞতার ছবি। ১৯৭৬ সালে ঢাকায়ইরানি দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি সুলতানিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশে তার প্রথম প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী হয়। এই সময়ে সুলতান বিস্মৃতপ্রায় ইমেজকেউদ্ধার করেন। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে গুণিজনেরা সুলতানের ছবি দেখে মুগ্দ হন। সুলতানের প্রতি দেশি বিদেশি শিল্পামোদীরা আবারওআকর্ষণ বোধ করেন। এরপর সুলতান জাতীয় ভাবে নানা সম্মাননায় অভিহিত হন। তাকে দেয়া হয় জাতির পড়্গ থেকে একুশে পুরস্কারও।

 

সুলতান বিদেশে থাকা কালে দ্রম্নপদী চিত্রকলায় আকর্ষণ বোধ করেন। পরবর্তীকালে তিনি সেখান থেকে উঠে আসেন দেশ,মাটি,মানুষের কাছাকাছি।তিনি গ্রামীণ দৃশ্য ও অতিসাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠতা তার ছবির বিষয়বস' হিসেবে গ্রহণ করেন।

 

সুলতান রূপগঞ্জের অদূরে কুরিগ্রামে সরকারের আনুকুল্যে চিত্রশালা ও বাড়ি নির্মাণ করেন। এই বাড়িটি তখন দেশি বিদেশি গুণিজনের পদচারণায়গুরম্নত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাতে বাংলাদেশের একটি ছোট্ট জেলা নড়াইল ও তার জনসাধারণ আনন্দে উতবেলিত হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে সুলতানের শতশত ছবি দেশে ও দেশের বাইরে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হতে থাকে। সুলতান তাঁর শিশু চিত্রশালার নাম দেন শিশুস্বর্গ। এই শিশুস্বর্গ হলোসুলতানের ছবি অংকন শিড়্গার বিদ্যালয়। সুলতান কীর্তিমান মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে ১৯৯৪ সালের ১১ অক্টোবর যশোর সেনানিবাসহাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। সুলতানের বিখ্যাত ছবিগুলির মধ্যে হলো: ১.পোলোনামা ২.মতস্যশিকার ৩.নৌকাবাইচ ৪.ধানকাটা ৫.ধানমাড়াই৬.গাঁতায় জনদেয়া ৭.সাঁকো পারাপার ৮.আদম সুরত ৯.মু্ক্িতযুদ্ধ-১ ১০.মুক্তযুদ্ধ-২ ১১.গুনটানা ১২.গণহত্যা-১ ও ১৩.গণহত্যা।

 

 

যে সব গ্রনে'র সাহায্যে রচিত রচনাটি:

 

১.এস এম সুলতান স্মারকগ্রন'---সম্পাদনায়,সৈয়দ মনজুরম্নল ইসলাম ও সুবীর চৌধুরি

                                  প্রকাশনায় শিল্পকলা একাডেমী,জুন,১৯৯৫ সাল।

২.স্মৃতির অলিন্দে শিল্পী সুলতান---মহসিন হোসাইন,প্রকাশনায় গতিধারা,৩৮/২ মান্নাান                        মার্কেট বাংলাবাজার,ঢাকা,দ্বিতীয় সংস্কার,২০১১ সাল।


Comments (0)        Print        Tell friend        Top




 
  ::| Events
November 2018  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
        1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30  
 
::| Hot News
মেহের বানু খানম
চিত্রশিল্পি এস এম সুলতান

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]