Monday, 05.20.2019, 03:57am (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
গবেষক
 
সাহিত্য গবেষক শাহাবুদ্দীন আহমদ



খেটে খাওয়া মানুষের চেতনা, নিপীড়িত অসহায়ের স্বজন, সংগ্রামী জনতার স্বপ্ন পুরুষ এবং শিল্পীত হৃদয়ে চির সৌন্দর্যের প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম। উচ্ছ্বল তারুণ্য এবং দৃপ্তময় যৌবনের অগ্নিস্ফুলিংগ বুকে সাহিত্যের মাঠে বিজয়ী বীরের বেশে হেঁটে চলেছেন তিনি। কিন্তু প্রভুর বিশেষ ইংগিতে পৌঢ়তায় ছিলেন নির্বাক অসহায় শিশুদের দলে। তবে নক্ষত্র শোভিত চাহনি ও মায়াময় বুদ্ধিদৃপ্ত মুখমন্ডলে ছিল তাঁর পৌঢ়ের দৃঢ়তার উজ্জল ছাপ। তাঁরই প্রতিকৃতি ধারণ করে জীবন্ত নজরুল হয়ে যিনি কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফাসহ বাংলা সাহিত্যের সিংহ পুরুষদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে মাতামাতি করে চার দশক ধরে সারাদেশের সাহিত্য প্রেমিকদের হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে তুলেছেন তিনিই শাহাবুদ্দীন আহমদ। নজরুলীয় ডাগর চোখের চাহনি, মায়াময় মুখায়বে দৃপ্ত উচ্চারণ এবং ছন্দময় পথ চলায় সত্যিকার অর্থেই তার মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠত। চিন্তা চেতনা ও গবেষণাকর্মেও তিনি ছিলেন জাতীয় কবির আর্শীবাদ প্রাপ্ত সফল মানুষ। কখনো কখনো মানবতাবাদী কবি ফররুখ আহমদ এবং প্রেমময় কবি গোলাম মোস্তফার রুহানী পরশ ছুঁয়ে যেত তাঁর জীবনবোধের স্বপ্নচুঁড়ায়। গত ২০০৭ সালের ১৬মে তিনিও চলে গেলেন প্রভূর দরবারে।

(নব্বই দশকের শুরুর দিকে শাহাবুদ্দীন আহমদের সাথে আমার পরিচয়। কাজী নজরুল ইসলামের অবিকল প্রতিকৃতি চোখে পড়ায় খুব চমকে গিয়েছিলাম। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে তাকে প্রশ্ন করেছিলাম ‘আমাদের জাতীয় কবি কি আপনার আত্নীয়? তিনি হাসিমাখা কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন হ্যাঁ, আত্নার আত্নীয়। আর প্রশ্ন করার কোন সাহস পাইনি। পরে দৈনিক আল মুজাদ্দেদ পত্রিকার অফিসে তার সাথে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ ঘটে। অবশেষে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সংস্কৃতিকেন্দ্রে সহকারী সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করার সুবাদে তাকে পাই একান্ত কাছের মানুষ হিসেবে। বিভিন্ন সেমিনার, নান দিবসের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান এবং কর্মশালাসহ নানাবিধ উৎসবে তার বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি ও গান শুনি। সেইসাথে ধারাবাহিকভাবে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা পড়ে বুঝতে পেরেছি যে, সত্যিই তিনি জাতীয় কবির আত্নার আত্নীয়।)

শাহাবুদ্দীন আহমদ জন্মগতভাবে পশ্চিমবাংলার অধিবাসি। তিনি বাংলা ১৩৪২ সনের ৮ই চৈত্র মোতাবেক ১৯৩৬ সালের ২১ মার্চ চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার আরশুল্লাহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং পশ্চিমবাংলার বাদুড়িয়া মডেল ইন্সটিটিউট (বর্তমান দিলীপকুমার ইন্সটিটিউট) থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর তিনি পূর্ববাংলায় আসেন এবং দৌলতপুর ব্রজমোহন কলেজে লেখাপড়া করেন। ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্থান লেখক সংঘের মুখপত্র ‘লেখক সংঘ পত্রিকা’র সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে লেখক সংঘ পত্রিকা ও পরে ‘পরিক্রম’ পত্রিকার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৬৩ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্থান লেখক সংঘের অফিস সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ থেকে ৭৩ সাল পর্যন্ত ‘নজরুল একাডেমী পত্রিকা’র সহযোগী সম্পাদক এবং ১৯৭৩ থেকে ৭৮ পর্যন্ত উক্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নিয়মিত সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘অগ্রপথিক’ এর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে নজরুল ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে তাকে ইনষ্টিটিউশনের ট্টাষ্টি বোর্ডের অন্যতম সম্মানীয় সদস্য মনোনীত করা হয়। দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক ‘আল-মুজাদ্দেদ’ পত্রিকার প্রধান সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শাহাবুদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন স্বার্থক সাহিত্য সমালোচক। তিনি নজরুল গবেষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও বিশ্বসাহিত্য থেকে শুরু করে বাংলা সাহিত্যের অধূনাকালের কবি সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়েও যেমন গবেষণা করেছেন তেমনি শিল্পসাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ব্যাপভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে তার গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ এবং গোলাম মোস্তফা। জাতীয় কবির কবিতা, গান, নাটক ও গদ্যসাহিত্য নিয়ে তিনি এতটাই বিশ্লেষণ ও গবেষণা করেছেন যে, বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকজন নজরুল গবেষকদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। এমনকি জাতীয় কবির খেয়ালী মন, সরলতা, উদারতা ও ব্যবহারিক জীবন নিয়েও খোলা মেলা পরীক্ষ নিরীক্ষা চালিয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন, নজরুল ইসলাম রহস্যময় এবং গোপনপ্রিয় ছিলেন। জাতির প্রয়োজনই ছিল তার জীবনের একান্ত প্রয়োজন। নজরুলের জীবন মানে বিংশ শতাব্দির প্রথম চার দশকের বিশ্বইতিহাস, উপমহাদেশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস।

উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষতা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের ইতিহাস সবই নজরুল জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। ভারতীয় সঙ্গীত জগতে তিনি এক অনন্য দিকপাল। ইসলামী সঙ্গীত থেকে শুরু করে শ্যামা সংগীতেরও জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। নজরুল মানেই জাতীয় মুক্তির ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের উৎকর্ষতার ইতিহাস। এমনকি নজরুল মানে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব ও বিদ্রোহের ইতিহাস। কাজী নজরুল ইসলাম বিষয়ক তার গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শব্দ-ধানুকী নজরুল ইসলাম (১৯৭০), সাহিত্য চিন্তা (১৯৭৫), নজরুল সাহিত্য বিচার (১৯৭৬), ছোটদের নজরুল (১৯৭৮), ইসলাম ও নজরুল ইসলাম (১৯৮১), নজরুল সাহিত্য দর্শন (১৯৮৩), দ্রষ্টার চোখে স্রষ্টা (১৯৮৯), লক্ষ বছর ঝর্ণায় ডুবে রস পায় নাক নুড়ি (১৯৯৯), বহুরূপে নজরুল (১৯৯৯) ও নজরুলের গদ্যে উপমা (২০০০) প্রভৃতি।

নজরুল গবেষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও শাহাবুদ্দীন আহমদ কবি ফররুখ আহমদ এর সাহিত্য নিয়েও ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিছেন। মুলত ফররুখ আহমদ সহজবোধ্য কোন কবি নন, তাকে আত্নস্থ করতে হলে চিন্তা-গবেষণার প্রয়োজন। শাহাবুদ্দীন আহমদ সে পথে খানিকটা কাজ এগিয়ে রেখেছেন। তিনি মনে করেন যে, ফররুখ আহমদ এর কবিতায় ইসলামী দর্শনের প্রতিফলন হয়েছে বলে যারা ধর্মীয় প্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে তার কবিতা পড়েন তারা তার কব্যের সাহিত্য উৎকর্ষ সম্বন্ধে কতটা অবহিত তা আমার জানা নেই। ফররুখ ধর্মের কথা যতই বলুন তিনি একজন শিল্পী-সচেতন কবি এবং খুব সাধারণ মানুষের জন্য তিনি কবিতা লিখেছেন এমন মনে করার কারণ নেই। তিনি ধ্রুপদী সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং ইরেজীর মাধ্যমে জার্মান ও পরাসী ভাষার অনেক শ্রেষ্ঠ কবিদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিশ্বের আধুনিক কবিতা ও তার শিল্প আন্দোলনের সাথেও পরিচিত ছিলেন। কাব্য রচনার সময় সেই শিল্প-কৌশলকে যথরীতি প্রয়োগ করতে তিনি সাধ্যমত পরিশ্রম যে করেছেন সেটা তার লেখার পংক্তিতে প্রতীয়মান। সে জন্যেই একটু সর্তক দৃষ্টি নিয়ে তাকে বারবার পড়তে হয়। “আমি দাবী করিনা যে, ফররুখকে আমি চুমুড় দিয়ে খেয়েছি এবং ফররুখের এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যা আমার পাকস্থলী শোষণ করেনি। তবে আমি ফররুখের কাব্য-চরণগুলোর মধ্যে পদচারণা করতে আলস্য করিনি একথা বলতে পারি।” সত্যিকার অর্থে ফররুখ আহমদের কবি মানস ও মনীষা, শব্দচয়নের পারঙ্গমতা, ছন্দের খেলা, চিত্রকল্প নির্মাণ এবং উপমা-উৎপ্রেক্ষার সুকৌশলী ব্যবহারের স্বাদ আশ্বাদনের জন্য শাহাবুদ্দীন আহমদের ‘কবি ফররুখঃ তাঁর মানস ও মনীষা (১৯৯৩) এবং ‘উপমাশোভিত ফররুখ (২০০১)’ অধ্যায়ন করা জরুরী। এ দুটি গ্রন্থ কাব্য প্রেমিকদের কাছে ফররুখ আহমদকে আরো প্রিয়কবি হিসেবে উপস্থাপনে সহায়ক হবে।

বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা। প্রেম, প্রকৃতি ও রূপ, সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লিখলেও মুসলিম জাতিসত্বার দুঃখ-সুখ, আশা-স্বপ্ন, উথান-পতন, জয়-পরাজয়, সমস্যা-সংকট, ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতি নিয়ে তিনি অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। এমনকি প্রেম-প্রকৃতি নিয়ে যত কবিতা লিখেছেন তার চেয়ে তিনি অনেক অনেক বেশী কবিতা লিখেছেন জাতীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে। সেই হিসেবে তিনি জাতির কাছে আরো বেশি মূল্যায়ন পাওয়ার হকদার। কিন্তু জাতির কপালে এমন সৌভাগ্য জোটেনি। কারণ তাকে চর্চা করলে যে জাতিই উপকৃত হবে এমন চেতনা তৈরিতে গোলাম মোস্তফার ভক্তরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে শাহাবুদ্দীন আহমদ এ মহৎ কাজটিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বিভিন্ন নিবন্ধে বলতে চেয়েছেন যে, জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুকি নিয়েও গোলাম মোস্তফা যে কাজ করেছেন তা মুসলিম ও ইসলামের স্বার্থে। তার সমকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল উপমহাদেশ থেকে বৃটিশদের তাড়িয়ে পরাধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন; মুসলিম দেশসমুহকে ইউরোপীয় ও বৃটিশ শক্তির একত্রিত শাসন ও শোষণ থেকে মুক্ত করার আন্দোলন; মুসলিম শক্তির একত্রিত হওয়া এবং তাদের বিগত শতাব্দীর পরাজয়ের গ্লানি থেকে উদ্ধার এবং তাদের মধ্যে রেঁনেসাসের বীজমন্ত্র রোপনের প্রচেষ্টার সম্মেলন। এর সঙ্গে ছিল মুসলিম লীগের জন্ম, খিলাফাত ও অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ ও তা রদকরণের আন্দোলন, ক্ষুধা- দারিদ্র-দুর্ভিক্ষ এবং সর্বোপরি পাকিস্তান আন্দোলন। সেইসাথে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও জাতিসংঘের সৃষ্টি। এসব প্রেক্ষাপটে গোলাম মোস্তফা তার সমস্ত বোধ, উপলদ্ধি, অনূভূতি ও চেতনাকে মুসলমানদের মুক্তির জন্য অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনকে তিনি দায়িত্ব বলে মনে করতেন। ফলে অতি প্রগতিশীল সাহিত্যসেবিরা তাকে লোকান্তরে রাখাকেই কল্যাণকর মনে করেন। গোলাম মোস্তফার কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং গদ্য সাহিত্য নিয়ে আটাশটি প্রবন্ধের সমন্বয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘গোলাম মোস্তফা’ শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ২০০০ সালে প্রকাশিত এ গ্রন্থে তিনি কবি গোলাম মোস্তফার কবিতায় প্রেম, নারী সৌন্দর্য, কবিতা ও গদ্যসাহিত্যের মূল্যায়ন, কবিপ্রতিভা ও বিভিন্ন বিতর্কের সমাধান প্রদান করেছন।

সাহিত্যে অশ্লীলতাকে শিল্প হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা অনেক পুরনো। প্রাকইসলামী সাহিত্যে ইমরুল কায়েসদের রচনাবলী আমাদের সে কথাকে যেমন স্মরণ করিয়ে দেয় তেমনি শিল্পের মোড়কে সাজিয়ে দিলেও অশ্লীলতা যে কোনভাবেই বিশ্বাসী মানুষের উপভোগ্য সাহিত্য হতে পারেনা তা হাসসান বিন সাবিতসহ সাহাবী-তাবেঈ কবিদের রচনা থেকে প্রমাণিত হয়। শাহাবুদ্দীন আহমদ বিশ্বাসের ভিত্তিমূলে দাঁড়িয়ে তাই অশ্লীলতা থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ফ্রয়েড, মার্কস, রাসেল প্রমুখ মনীষীরা আমাদের যে চিন্তাতেই অগ্রসর হতে প্ররোচিত করুননা কেন, আমরা নিজস্ব ধর্মচিন্তার শ্লীলতাকে বর্জন করতে পারিনা। যৌন জীবন মানবসমাজে যত বড় ভূমিকাই রাখুক তাকে সর্বস্ব মনে করে আমাদের চিন্তাকে তাতে আর্বতিত হতে দ্বিধা করব। জীব সৃষ্টির ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়ায় বিধাতার পবিত্র ইচ্ছার অন্তর্নিহিত সুত্রের যে ব্যাখ্যাই দেয়া হোক তা থেকে সামাজিক পাপের উন্মেষ ঘটে না এটাকে স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত। জীবন গঠনে আমরা আমাদের ধর্ম-নির্দেশিত পথেই নিজেদের আবিষ্কার করার চেষ্টা করব। আমরা শুধু ‘ভেনাস’ ও ‘ঊর্বশী’র স্তুতিতেই নিবন্ধ থাকব না, আমরা ‘দারিদ্র্য’কে নিন্দা স্তুতির মধ্যে গণ্য করতে চেষ্টা করব। শয়তানী চেতনাকে রুদ্ধ করে মানবিক চেতনাকে অগ্রাধিকার দেব। যে চেতনা আমাদের নর্দমার মধ্যে টান দেয় তা থেকে আমরা বিশাল সমুদ্রে টেনে নিতে চেষ্টা করবো- চিরকালের নদীর চৈতন্যের মত।”

শাহাবুদ্দীন আহমদ শুধু সাহিত্য সমালোচকই ছিলেন না, তিনি একজন খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী এবং সুবক্তাও ছিলেন। সাহিত্য সংস্কৃতির পরিশীলনের জন্য তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ভাষার সরলতা এবং সহজ উপস্থপনা কৌশল তার লেখনিকে পাঠক হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়তে সহায়ক হয়েছে। জাতি তার যর্থার্থ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হলেও তিনি কর্মদক্ষতা বলে সাহিত্য গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৭৮ সালে তিনি তার ‘নজরুল সাহিত্য বিচার, গ্রন্থের জন্যে ‘সুফী মোতাহার হোসেন পুরষ্কার, ১৯৮৪ সালে কলকাতা নজরুল পরিষদ নজরুল গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ‘নজরুল পুরষ্কার,’ এবং ১৯৮৮ সালে তিনি ‘চুরুলিয়া নজরুল আকাদেমী পুরষ্কার’ লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব গবেষণাকেন্দ্র’ ও ‘বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ’ কর্তৃক ‘কবি নজরুল জাতীয় পুরষ্কার’ লাভ করেন এবং চট্রগ্রাম সংস্কৃতিকেন্দ্র থেকে ‘ফররুখ স্মৃতি পুরষ্কার’ পান। ১৯৯৪ এ ‘বাংলাদেশ ইসলামিক স্কুল ইংলিশ, দুবাই’ থেকেও সাহিত্য পুরুষ্কারে ভূষিত হন। নজরুল, ফররুখ ও গোলাম মোস্তফার পথ ধরে তিনিও চলে গেলেন প্রভূর সান্নিদ্ধে। তার গবেষণাকর্মের এ ঋণ জাতি কোনদিন ভূলতে পারবে না।

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments (0)        Print        Tell friend        Top




 
  ::| Events
May 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30 31  
 
::| Hot News
ড. আনিসুর রহমান
 ডঃ ভব রঞ্জন সরকারের অসামান্য কীর্তি
জাওয়েদ করিম

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]