Sunday, 11.18.2018, 03:00pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
গণমাধ্যম
 
আবদুস সালাম



আবদুস সালাম (আগস্ট ২, ১৯১০- ফেব্রুয়ারি ১৩, ১৯৭৭) বাংলাদেশী সাংবাদিক যিনি স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রথম মহাপরিচালক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানী সামরিক-বেসামরিক উভয় শাসনকালেই বাঙালিদের অধিকার সম্বন্ধে তাঁর সম্পাদিত পাকিস্তান অবজার্ভার রে বাংলাদেশ অবজার্ভার পত্রিকায় লিখে তিনি শাসকদের বিরাগভাজন হন এবং একাধিকবার কারারুদ্ধ ছিলেন।


জন্ম ও শিক্ষাজীবন:

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর নামে এক অজ পাড়াগাঁয়ে ১৯১০ সালের ২রা আগস্ট আবদুস সালাম জন্ম গ্রহণ করেন। আবদুস সালাম ছাত্রজীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা বা ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান পান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আই, এস, সি পরীক্ষায় মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে তিনি শীর্ষস্থান লাভ করেন। কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এরপর ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম হয়ে টনি মেমরিয়াল স্বর্ণ পদক পান।
প্রথম কর্মজীবন ও বিবাহ

ইংরেজিতে অল্প কিছুদিন ফেণী কলেজে অধ্যাপনার পরে সরকারী চাকুরীতে যোগ দেন । ১৯৩৪ সালে তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিম গাঁওয়ের করিমুল হক ও মাহমুদা খাতুনের একমাত্র কন্যা ফাতেমা খাতুনকে বিয়ে করেন। ফাতেমা খাতুনের বড় ভাই মুহাম্মদ শামস-উল হক শিক্ষা মহাপরিচালক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রভৃতি গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।

আব্দুস সালাম ইংরেজ আমলে বেঙ্গল সরকারের আয়কর, সিভিল সাপ্লাইজ, অডিট, ইত্যাদি বিভাগে অনেক গুরুত্বপুর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে দেশ বিভাগের সময় তিনি ঢাকা চলে আসেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ব বাংলা সরকারের উপ-মহা হিসাব পরিচালক নিযুক্ত হন।

 সাংবাদিক জীবন:

কিন্তু এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে পুর্ব বাংলাকে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠি একটা উপনিবেশ করে রাখতে চায়। লোভনীয় সরকারী চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়ে অবজার্ভার পত্রিকাতে অনিশ্চিত নতুন জীবন শুরু করেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারীর এক সপ্তাহ আগে তাঁর এক সম্পাদকীয়কে ধর্ম বিরোধী আখ্যা দিয়ে নূরুল আমীনের মুসলিম লীগ সরকার সালামকে কারারুদ্ধ করেন এবং পত্রিকাটি বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ দু বছর সালামকে এখানে সেখানে ছোটখাট চাকুরী করে সংসার চালাতে হয়। এর পরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সালাম যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। অবজার্ভার পুনরায় তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশনা শুরু করে।

কিন্তু এর কিছুদিন পরেই পাকিস্তানে সামরিক শাসনের সুত্রপাত হয়। আবদুস সালাম আইউব খানের আত্মজীবনী Friends, not Masters এর বিরূপ সমালোচনা করায় তাঁর পত্রিকায় সরকারী বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়া হয়। অবাঙালিদের স্বার্থের মুখপত্র ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার প্রেস দুর্ঘটনাক্রমে আগুনে পুড়ে গেলে আবদুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়। তবে সমস্ত পাকিস্তানেই আবদুস সালাম বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য একটি সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিনত হন। তাঁকে পাকিস্তান কাউন্সিল অব নিউজপেপার এডিটরস-এর সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবেরও আজীবন সদস্য পদ লাভ করেন।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ঢাকার সব দৈনিকের সম্পাদক পরিবর্তন হলেও আবদুস সালাম স্বপদে থেকে যান। কিন্তু নতুন সরকারকে কিছু গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে ‘দি সুপ্রীম টেস্ট’ নামে একটি সম্পাদকীয় লেখায় তাঁকে সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর পরেও তিনি অধুনালুপ্ত ‘বাংলাদেশ টাইমস’ পত্রিকায় কলাম ও সম্পাদকীয় লিখতে থাকেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে জিয়াউর রহমান তাঁর অনুরোধে প্রেস ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন এবং আবদুস সালাম হন তার প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতেই তিনি শেষ শক্তি ব্যয় করেন। ১৯৭৬ সালে প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর মত আব্দুস সালামও এই পদকে ভূষিত হন।

আবদুস সালামের নেতৃত্বে সেই সময়ে অবজার্ভারে যাঁরা সাংবাদিকতা করেছেন, তাঁদের অনেকেই পরে দেশে-বিদেশে খ্যাতিমান সাংবাদিক হয়েছেন ; যেমন - ওবায়েদ উল হক , এস, এম, আলী, মাহবুব জামাল জাহেদী, কে,জি, মুস্তফা, আতাউস সামাদ, এ,বি, এম, মূসা, এনায়েতুল্লাহ্‌ খান প্রমুখ; আবার অনেকে পরে অন্য পেশায় শীর্ষ পৌঁছেছেন, যেমন শাহ কিবরিয়া, শেখ রাজ্জাক আলী, রাজিয়া খান, মীজানুর রহমান শেলী প্রমুখ।

 
কর্মজীবনে ইংরেজ আমলে বেঙ্গল সরকারের আয়কর, সিভিল সাপ্লাইজ, অডিট ইত্যাদি বিভাগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের কিছুদিনের মধ্যে তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের উপমহাহিসাব পরিচালক নিযুক্ত হন। এরপর তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে একটি সম্পাদকীয় লেখার জন্য তত্কালীন মুসলিম লীগ সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে এবং পত্রিকাটির প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্টের জয়লাভের পর তত্কালীন সরকার পত্রিকাটি প্রকাশের অনুমতি দেয়। তিনি স্বাধীনতার আগে ও পরে সবসময়ই শাসকশ্রেণীর অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে কলম ধরে সরকারের বিরাগভাজন ও নিপীড়নের শিকার হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে একটি সম্পাদকীয় লেখার দায়ে চাকরিচ্যুত হন। এরপর তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এ বছর প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো আবদুস সালামও এই পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পথিকৃত্ সাংবাদিক আবদুস সালাম সম্পর্কে প্রবীণ সাংবাদিক বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ছড়াকার ফয়েজ আহ্মদ বলেন, দৈনিক অবজারভারের প্রধান সম্পাদক আবদুস সালামকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে সর্বদাই দেখেছি। যদিও তিনি সরাসরি সাংবাদিকতা থেকে অবজারভারের সম্পাদক হননি তবুও আমরা তাকে সাংবাদিকতার একজন পথিকৃত্ হিসেবে মনে করতাম। তিনি ছিলেন একজন গুণী সাংবাদিক, যার গভীর পড়াশোনা ছিল। তিনি অবজারভারে সাংবাদিকতার সময় এক গৌরবময় অধ্যায় সূচনা করেছিলেন। সাংবাদিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতিও সমর্থক ছিলেন। যদিও তিনি দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চাইতেন না, তবুও তাকে অনুরোধ করে একবার প্রেসক্লাবের সভাপতি করা সম্ভব হয়েছিল।

Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
নূরজাহান বেগম
আবদুল গাফফার চৌধুরী



 
  ::| Events
November 2018  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
        1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30  
 
::| Hot News
আবেদ খান
কামাল লোহানী
আবদুস সালাম

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]