Monday, 05.20.2019, 03:58am (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
কবি
 
কাজলা দিদির কবি



বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই

মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই

কাজলা দিদি, সব শ্রেণীর পাঠকের কাছেই প্রিয় একটি কবিতা। সব পাঠকের হূদয়েই কাজলা দিদি স্পর্শ করে। কাজলাদিদির জন্য সবারই মন খারাপ হয়। অনেকের চোখ থেকে নীরব জল ঝরে। এই জল ঝরানো কবিতার লেখক যতীন্দ্রমোহান বাগচী। কবিতায় তার হাতে খড়ি সেই স্কুল জীবনে। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। কিশোর বয়সেই বই পড়ার প্রতি তার তুমুল আগ্রহ। বাড়িতে তো পড়েনই। স্কুলে গিয়েও বসে থাকেন না। সবাই দুষ্টুমিতে মত্ত। যতীন্দ্র মোহন বাগচী স্কুলের গ্রন্থাগারে বসে আপন মনে বই পড়ছেন। শুনতে পেলেন ঈশ্বচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর নাই। কবির কিশোর মন এই লেখকের মৃতু্যতে বেদনার্ত হয়ে ওঠে। নিজের মনকে শান্তনা দিতে লিখে ফেললেন বিদ্যাসাগর স্মরণে ছোট্ট একটা কবিতা।

বিদ্যাসাগরের মৃতু্যতে সেদিন বিকেলেই স্কুলে বসল শোকসভা। বিদ্যাসাগরের স্মৃতিচারণ করলেন অনেকেই। কিন্তু ছাত্ররা কেউ কিছু বলল না। প্রধান শিক্ষক আফসোস করে বললেন, আমার ছাত্রদের ভেতর থেকে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কেউ কিছু বলল না। অথচ বিদ্যাসাগরের লেখাই আমাদের ছাত্ররা পড়ছে। তিনি আর একবার বললেন, তোমাদের যদি কারো কিছু বলার থাকে তাহলে বলতে পার।

সব ছাত্ররা বসে আছে। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়-য়া যতীন্দ্র মোহন উঠে দাঁড়ায়। অনেক সাহস নিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যায়। সবার সামনে দাঁড়ায়। পকেটে গোজা ছোট্ট কাগজটুকু বের করে। জীবনের প্রথম লেখা কয়েকটা লাইন পড়ে। এ কবিতা শুনে অনেকেই বিস্মিত হয়ে যায়। অনেকের চোখ জলে ভরে ওঠে। এতটুকু ছেলে কি এক শোকের বাণী রচনা করে ফেলল!

এ থেকে তার লেখক জীবন শুরু। এরপর আর একটি শোকের কবিতা লিখলেন। যে কবিতাটা তার জীবনের বিখ্যাত কবিতা এবং যে কবিতা তাকেও বিখ্যাত করে তুলেছিল। সে কবিতাটি সব কালের পাঠকদেরই কাঁদায়। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রষ্টা হুমায়ুন আজাদ। তার শৈশব জীবনের কথায় লিখেছেন। অনেক কবিতাই পড়েছি। কিন্তু যতীন্দ্র মোহন বাগচীর কাজলা দিদি পড়তে গিয়ে আমি ওলট,-পালট হয়ে গেছি। কবিতা পড়তে দেখি বইয়ের পৃষ্ঠা ভিজে গেছে। শুধু হুমায়ুন আজাদ নয়। দিদি হারা একটা ছোট্ট মেয়ে, কেমন করে তার দিদির জন্য। দিন রাত দিদিকে খুঁজে ফিরে। মায়ের আঁচল ধরে কত প্রশ্ন করে। মা দিদির কথায় আঁচলে মুখ লুকায়। এমন বেদানার্ত এক পক্তিমালা কার হূদয় থেকে অশ্রু না ঝরায়? হারিয়ে যাওয়া এই দিদির নামছিল কাজল। কবি কবিতার নামকরণ করেন কাজলা দিদি। এ কবিতা পাঠককে এতবেশি মুগ্ধ করে যে, পরবতর্ীতে কবি নিজেও হয়ে গেলেন কাজলা দিদির কবি।

কাজলা দিদির এই কবি ১২৮৫ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে নদীয়া জেলার জমশেরপুরের বিখ্যাত জমিদার বাগচী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাগচী পরিবার ছিল তখনকার একটি মুক্তচিন্তার পাঠশালা। এ পরিবারে তখন রামপ্রাণ বাগচী, জ্ঞানেন্দনারায়ণ বাগচী ও কবি দ্বিজেন্দ্রনারায়ণ বাগচী সাহিত্য জগতে প্রতিষ্ঠিত নাম। যতীন্দ্র মোহন বাগচীর ঠাকুরদা রামগংগা ছিলেন নাসিরপুর রাজার দেওয়ান। তার বাবা হরিমোহন বাগচী ছিলেন নদীয়া জেলার সম্মানী ব্যক্তি। যতীন্দ্রমোহন বাগচী প্রতাপশালী জমিদার পরিবারের সন্তান হলেও সাধারণের সাথে মিশেই তিনি শৈশব পার করেছেন। শৈশব-কৈশোর থেকেই তিনি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন সাধারণ জীবন-যাপনের প্রতি।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় তার জ্যাঠামশায়ের কাছে। জ্যাঠামশায়ের কাছে পাঠ্যপুস্তক নয়, তিনি পড়েন মহাভারত, কৃত্তিবাসের সপ্তকান্ড ও রামায়ণ। জ্যাঠামশায়ও নিবিড়ভাবে শুনতেন যতীন্দ্র মোহন বাগচীর এই পড়া। তার প্রথম একাডেমিক জীবন শুরু বহরমপুরের খাগড়াতে মিশনারী স্কুলে। শৈশবেই তিনি তীক্ষ্ন মেধার পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের বিস্ময়কর করে ফেলেন। পরে তিনি ভর্তি হন কলকাতা হেয়ার স্কুলে। প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে এফ.এ ও বি.এ পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষে নদীয়াস্থ জমিদারী দেখা-শোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু এসবে তার মন বসে না। তিনি চলে যান কলকাতায়। সেখানে তিনি পুরোপুরি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তার শৈশব জীবনের লেখা তখনকার আলো ও উৎসাহ পত্রিকায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হত।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জমশেরপুরের বাড়িতে ছিল সেকালের প্রখ্যাত লেখকদের আড্ডা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুলের আসা-যাওয়া ছিল সার্বক্ষণিক। এর কিছুদিন পর যতীন্দ্র মোহন বালিগঞ্জের ইলাবাস নামক নতুন বাড়িতে ওঠেন। এ বাড়িও সমকালীন সাহিত্যিকদের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠত।

যতীন্দ্রমোহন বাগচী সম্পাদনা করেন মানসী, যমুনা ও পূর্বাচল পত্রিকা। তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ছিল রেখা। এ ছাড়াও অপরাজিতা, নাগকেশর ও বন্ধুর দান উলেস্নখযোগ্য। কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি উপন্যাস লিখেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। তার উলেস্নখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে নায়িকা, মহাভারতী ও পাঞ্চজনা। তার কাব্য সংকলন, কাব্যমালঞ্চ দীর্ঘদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিলো।

রবীন্দ্রনাথের সাথেও ছিল তার অন্তরঙ্গ প্রীতি। রবীন্দ্রনাথও তরুণ হিসেবে বাগচীকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। যতীন্দ্র মোহনের কবিতা পড়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "ইতিমধ্যে নাগকেশর পড়িয়া দেখিলাম। দেখিলাম তোমার লেখনী, তোমার কবিত্বকে পঙ্খিরাজ ঘোড়ার মতন এখনো সমান বেগে বহিয়া লইয়াছে। এখনো ভার ক্লান্তিকর লক্ষণ নাই। বরঞ্চ নিজের গতিবেগে সে যেন মাতিয়া উঠিয়াছে। তোমার নিপুণ ছন্দের পায়ে অনায়াস নৃত্যলীলার নূপুর বাজিতেছে। আবার তাহার হাতে ও মাথায় কানায় কানায় ভরা বিচিত্র রসের থলি'

যতীন্দ্র মোহন ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অন্ত্যন্ত স্নেহশীল ও রসিক মানুষ। শুধু কবি-সাহিত্যিক নয়, তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী গীতিকারও। তাৎক্ষণিক গান রচনা করে সুর দেয়ায়ও তিনি ছিলেন পারদশর্ী। তিনি ফুলকে খুব ভালবাসতেন। সর্বক্ষণ ফুলের মাঝে থাকতেই তিনি পছন্দ করতেন।

সবার প্রিয় কাজলা দিদির কবি যতীন্দ্র মোহন বাগচী ১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মৃতু্য বরণ করেন।

Comments (0)        Print        Tell friend        Top


Other Articles:
হেলাল হাফিজ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবি আজীজুল হক
কবি কায়কোবাদ
বন্দে আলী মিয়া
আল মাহমুদ
ফররুখ আহমদ
রেজাউদ্দিন স্টালিন
সুকুমার রায়
কবি শামসুর রাহমান



 
  ::| Events
May 2019  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30 31  
 
::| Hot News
আল মুজাহিদী
কবি আবদুল হাকিম
কবি নির্মলেন্দু গুণ : গুণীজন techtunes bdnews24 bangladesh dse bdjobs alo prothom alo পড়ুন&
সুকান্ত ভট্টাচার্য
বুদ্ধদেব বসু
লোককবি আবদুল হাই মাশরেকী
কবি মনিরউদ্দীন ইউসুফ
হেলাল হাফিজ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবি কায়কোবাদ

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]