Sunday, 11.18.2018, 02:59pm (GMT+6)
  Home
  FAQ
  RSS
  Links
  Site Map
  Contact
 
আবদুুল হাই মাশরেকী ছিলেন মূলসংস্কৃতির শিকড়ের আধুনিক কবি ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় দুদিনব্যা ; লোককবি আবদুুল হাই মাশরেকীর ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী আগামী ১ এপ্রিল ২০১৬ ; আল মুজাহিদী ; ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন
::| Keyword:       [Advance Search]
 
All News  
  গুণীজন সংবাদ
  বিপ্লবী
  ভাষা সৈনিক
  মুক্তিযোদ্ধা
  রাজনীতিবিদ
  কবি
  নাট্যকার
  লেখক
  ব্যাংকার
  ডাক্তার
  সংসদ সদস্য
  শিক্ষাবিদ
  আইনজীবি
  অর্থনীতিবিদ
  খেলোয়াড়
  গবেষক
  গণমাধ্যম
  সংগঠক
  অভিনেতা
  সঙ্গীত
  চিত্রশিল্পি
  কার্টুনিস্ট
  সাহিত্যকুঞ্জ
  ফটো গ্যাল্যারি
  কবিয়াল
  গুণীজন বচন
  তথ্য কর্ণার
  গুণীজন ফিড
  ফিউচার লিডার্স
  ::| Newsletter
Your Name:
Your Email:
 
 
 
কবিয়াল
 

এক সংগ্রামী কবিয়ালের জীবন-অনুসন্ধান






        কবিগানের দুই জুটি- কবিয়াল রমেশ শীল ও কবিয়াল ফণী বড়ুয়া। যে আসরে তাঁরা উপস্থিত হতেন, বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো মানুষ ছুটে আসতো সে আসরে। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালি আর খুশিতে ফেটে পড়া মুহূর্ত এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। কবিয়াল রমেশ শীল অনেক আগেই গত হয়েছেন। ফণী বড়ণ্ডয়ার জীবনাবসান হলো ২০০১ সালে। কবিয়াল ফণী বড়ুয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সম্ভবত একটি যুগেরও অবসান হলো।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘কবিয়াল ফণী বড়ুয়া স্মারকগ্রন্থ’। শিমুল বড়ণ্ডয়া সম্পাদিত ৩৫২ পৃ: এ স্মারকগ্রন্থে ‘স্মরণ ও মূল্যায়ণ’ ‘প্রামাণ্য চিত্র’ ‘সাক্ষাৎকার’ ‘নিবেদিত কবিতা-ছড়া’ ‘পরিবারের স্মৃতি’ ‘পুরস্কার ও সংবর্ধনা’ ‘চিঠি’ ‘জীবনপঞ্জি’ ‘আলোকচিত্র’ মিলে এক সমৃদ্ধ প্রকাশনা।


‘চাটগাঁয়ের কবিয়াল’ শিরোনামে সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন লাম্বুরহাট ঘুরে ঘুরে একদিন হাটের দর জেনে বেড়াচ্ছি, হঠাৎ একজন এসে বলল দেখা করবেন ফণী বড়ুয়ার সঙ্গে? ফণী বড়ুয়া হচ্ছেন রমেশ শীলের সবচেয়ে প্রিয় সাগরেদ। ‘দেশ জ্বলে যায় দুর্ভিক্ষের আগুনে/ তবুও দেশ জাগিল না কেনে’ তাঁর গানের এ দুটো কলি অনেককেই গুণগুণ করতে শুনেছি। হাটের মধ্যে একটা ঘড়ি সারাবার দোকান।... মাথার চুলগুলো ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া, দেখলে বয়স অল্প বলেই মনে হয়। সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আলাপ করিয়ে দিলেন- ইনিই ফণী বড়ুয়া। মুখে সর্বদা একটা লাজুক ভাব। গায়ে হাত গুটানো শার্ট। দেহে কিংবা মনে কোথাও জড়তা নেই। চাঁছা-ছোলা কথা, কোন ঘোরপ্যাচ নেই। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে এভাবে উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিয়েছেন কবিয়াল ফণী বড়ুয়া। তারাশঙ্করের ‘কবি’ উপন্যাসের নায়ক নেতাই চরণের মতোই ফণীন্দ্র লাল বড়ুয়া কবিয়াল ফণী বড়ুয়া নামে খ্যাত হয়ে ওঠেন। কবি হয়ে ওঠার এ সাধনা বড়ই বিচিত্র। লোকবাংলার মৌলিক সাহিত্যের অন্যতম শাখা কবিগান। অষ্টাদশ শতকে বাংলার সামন্ত জমিদারদের মনোরঞ্জনের জন্য কবিগানের উদ্ভব হলেও শুরুতে কবিগান ছিল আদিরস্তাক, স্থূল রুচির এবং অশ্লীলতাপূর্ণ। তাই শহুরে শিক্ষিত, ভদ্র সমাজের কাছে কবিগান ছিল অপাংক্তেয়। ঊনিশ শতকের প্রথমপাদে কবিগান কিছুটা অশ্লীলতামুক্ত হয়ে বাংলার বিভিন্ন ভাববাদ নির্ভর হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কবিগান সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ারে পরিণত হয়। বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার স্পর্শে কবিগান সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চেতনা, শোষিত বঞ্চিত কৃষক, শ্রমিকের অধিকারের কথা, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংগ্রামী চেতনার জীবনভাষ্য হয়ে ওঠে।


কবিয়াল ফণী বড়ুয়া তাঁর গুরু কবিয়াল রমেশ শীলকে সঙ্গে নিয়ে কবিগানকে এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্যবোধ ও চারিত্র্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রেণীসংগ্রামের কথা, গণমানুষের মুক্তির কথা বলার জন্য এ দুই কবিয়াল বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘একাল-সেকাল’ ‘ধনতন্ত্র-সমাজতন্ত্র’ ‘কৃষক-জোতদার’ ‘চাষী-জমিদার’ ইত্যাদি। গণমানুষের মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ কবিয়াল ফণী বড়ণ্ডয়াকে স্মরণ ও মূল্যায়ণ করতে গিয়ে কমরেড কল্পতরু সেন লিখেছেন-সাধারণত কবিগানের শুরুতে সরস্বতী বা দেবদেবীর বন্দনা হতো কিন্তু কবিয়াল ফণী বড়ণ্ডয়া সেখানে গেয়েছেন-


প্রথমে বন্দি আমি জননী জন্মভূমি


কবি শিল্পী সাহিত্যিক গণে


যারা স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়ে করে জীবনপণ


পরাধীন ব্রিটিশ শাসনে


স্বাধীনতার লড়াই করি সূর্য্য সেন গিয়েছেন মরি


স্মরণ করি বীর ক্ষুদিরাম।


গুরু রমেশ শীলকে স্মরি ভাসাইলাম গানের তরী


জানাই তাঁহার চরণে প্রণাম।


এভাবে আসর বন্দনার রীতি প্রথম প্রবর্তন করেন ফণী বড়ুয়া। আবুল মোমেন তাঁর লেখায় শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে লিখেছেন রমেশ শীলের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার প্রতি টানও ছিল। তিনি ছিলেন মাইজভান্ডারের ভক্ত এবং ভক্তিবাদী বহু সঙ্গীত রচনা করেছেন। ফণী বড়ুয়া কিন্তু রাজনীতি ও সমাজ চেতনাকেই তাঁর সাধনার একমাত্র বিষয় করে তোলেন। ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ লিখেছেন-‘ভারি চশমার ফ্রেমের নিচে আশি বছরের সমান বয়সী দুটি চোখে আশার আলো একটুও ম্লান হয়নি। এভাবে বাংলা কবিগানের উৎকর্ষ ও বিবর্তনের ধারাকে নিজের জীবনে অঙ্গীকার করে নিয়েছিলেন কবিয়াল ফণী বড়ুয়া’। ‘সংগ্রামী জীবন-চেতনা শিরোনামে লেখায় ড. মাহবুবুল হক তাঁর সংগ্রামী গানের বিস্তৃত উদ্ধৃতি শেষে লিখেছেন-‘কবিয়াল ফণী বড়ুয়া শ্রমিক কৃষক ও সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার প্রয়াসী হয়েছেন। মাটির কাছাকাছি থাকা সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া সংগ্রামী মানুষ হয়েছে তাঁর গানের মুখ্য বিষয়’।


স্মারকগ্রন্থের ‘স্মরণ ও মূল্যায়ন’ অংশে এরকম ছত্রিশজন বিশিষ্ট লেখকের গুরুত্বপূর্ণ লেখা সংকলিত হয়েছে। যা পড়ে পাঠকবৃন্দ অনেক আনন্দের খোরাক পাবেন।


‘প্রামাণ্য চিত্র’ অংশে শৈবাল চৌধুরী নির্মিত চিত্রনাট্য ‘দীপ্ত পদাবলী’ সংযোজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘সাক্ষাৎকার’ অংশে ‘অনোমা’ ‘সাপ্তাহিক চট্টলা’ ‘সাপ্তাহিক কর্ণফুলীর দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ফণী বড়ুর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার সংকলিত হয়েছে। এ সাক্ষাৎকারগুলোতে ফণী বড়ুয়া এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা ভাবীকালের গবেষকদের জন্য মহার্ঘ্য হতে পারে। ‘নিবেদিত ছড়া-কবিতা’ লিখেছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার বড়ুয়া, উৎপল কান্তি বড়ুয়া, নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সন্তোষ বড়ুয়া প্রমুখ। সুভাষ মুখোপাধ্যায় ‘ফণী বড়ুয়া’ শিরোনামের কবিতায় লিখেছেন-


আমার বিরুদ্ধে বাড়ির লোকদের


অনেক নালিশ আছে


আমি নাকি এর ওর তার


অনেকেরই ঘড়ির


বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি


চাটগাঁর এক গঞ্জের বাজারে বসে


একমনে ঘড়ি সারাত


যে কবিওয়ালা


আমার বাড়ির লোকেরা এতই অজ্ঞ


যে, তারা জীবনে কখনো


সেই ফণী বড়ুয়ার নামই শোনে নি।


১৯৯৯ সালে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এই অমোঘ কবিতাটি হয়তো স্মৃতির অতলেই হারিয়ে যেতো, যদি না এ স্মারক গ্রন্থে সংকলিত হতো। কবিয়াল ফণী বড়ুয়াকে গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার একুশে পদকে ভূষিত করেছিলেন। এছাড়া অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক সংবর্ধনা, নাগরিক কমিটির স্মরণসভা এবং তাঁর জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ও সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ সম্পাদিত ‘কবিয়াল ফণী বড়ুয়া: জীবন ও রচনা’ (১৯৯৭), ‘জীবন পঞ্জি’ ‘আলোকচিত্র’ ইত্যাদি স্থান পেয়েছে স্মারকগ্রন্থে। বাংলার লোক সংস্কৃতির প্রথিতযশা কবিয়াল, সংগ্রামী চেতনার অগ্নিপুরুষ, মাটি ও মানুষের কবি ফণী বড়ুয়ার স্মারকগ্রন্থে প্রকাশ করে অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এক বিশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষত সম্পাদক শিমুল বড়ুয়ার দক্ষ ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে এ মহান কবিয়ালের জীবন ও সাহিত্যকর্ম কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। তবে একটি কথা না বললেই নয়, স্মারকগ্রন্থে ফণী বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য কিছু গান স্থান পেলে পাঠকবৃন্দ পড়ে অনেক বেশি আনন্দ লাভ করতেন। তবু, গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ কবিয়াল ফণী বড়ুয়ার স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ ও সম্পাদনার জন্য শিমুল বড়ুয়া আমাদের সকলের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়ে থাকবেন।


আজীবন দ্রোহী চেতনায় শাণিত ও প্রগতিপন্থী কবিয়াল ছিলেন ফণী বড়ুয়া। রাজদণ্ডের ভয়, বিত্ত-বৈভবে প্রতিষ্ঠিত সুখময় জীবন-এ সব উপেক্ষা করে তিনি গেয়েছিলেন শৃঙ্খলভাঙ্গার গান। তারাশঙ্করের কবি উপন্যাসের নেতাই চরণের মতোই গ্রামের অবহেলিত দরিদ্র পরিবারের বালক ফণীন্দ্রলাল বড়ুয়া ‘ফণী বড়ুয়া’ নামে খ্যাত হয়ে ওঠেন। পার্শ্ববর্তী দেওয়ানপুর গ্রামের খ্যাতনামা কবিয়াল রমেশ শীল ও করিম বক্‌সের কবিগান শুনে ফণী বড়ুয়ার মনে কবিয়াল হওয়ার সুপ্ত বাসনা জাগে। কবিয়াল রমেশ শীলকে গুরুপদে বরণ করে ফনী বড়ুয়া হয়ে ওঠেন রমেশ শীলের যোগ্য উত্তরসূরী। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাঁচখাইন নামক গ্রামে ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহণ করে উত্তরকালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ কবিয়ালদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। আজকের যুগে এই সংগ্রামী কবিয়ালের জীবন অনুসন্ধান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
--
প্রথম আলো

Comments (0)        Print        Tell friend        Top




 
  ::| Events
November 2018  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
        1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30  
 
::| Hot News
কবিয়াল বিজয় সরকার
এক সংগ্রামী কবিয়ালের জীবন-অনুসন্ধান

Online News Powered by: WebSoft
[Top Page]